বগুড়ায় মাদক কারবারির কাছে পুলিশের মাদক বিক্রি, সেই মাদক দিয়েই গ্রেফতারের পড় টাকা নিলো অফিসার!
বগুড়ায় এক মাদক কারবারির নিকট নেশাদ্রব্য ইয়াবা (মাদক) দুপুরে বিক্রি করে রাতে সেই মাদকদ্রব্য দিয়েই আটক করে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। এমন এক অভিযোগ উঠেছে বগুড়ার সদর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মিথুনের বিরুদ্ধে। ওই ব্যক্তি নিজেকে মাদক কারবারি হিসেবে দাবি না করলেও তার বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে পুলিশ সদস্যের দাবি, পূর্বের একটি আর্থিক লেনদেনের টাকা তিনি ওই ব্যক্তির কাছ থেকে নিয়েছেন। টাকা নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে।
অভিযোগকারী আমিনুল ইসলাম বগুড়া শহরের মেডিকেল রোড এলাকায় অবস্থিত মালগ্রামের বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে এবং এসব মামলায় তিনি বিভিন্ন সময়ে কারাগারে ছিলেন বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা সম্পর্কে আমিনুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি দাবি করেন, গত ৬ জুলাই বগুড়া সদর থানার এএসআই মিথুন তাকে তল্লাশি করেন। তবে ওই সময় তার কাছে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। পরে পুলিশ সদস্য তার কাছে টাকা দাবি করেন। একপর্যায়ে তিনি কয়েকজনের উপস্থিতিতে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন আমিনুল।
আমিনুল ইসলাম বলেন, এএসআই মিথুন হঠাৎ করে আমাকে তল্লাশি করেন। তবে তখন আমার কাছে কোনো কিছু পাননি। পরে আমার কাছে টাকা দাবি করেন। এরপর তিন-চারজনের সামনে আমি ১০ হাজার টাকা দিলে আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে আমিনুল ইসলামের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এএসআই মিথুন। তার দাবি, আমিনুলকে তিনি পুলিশের সোর্স হিসেবে ব্যবহার করতেন। কাজ দেওয়ার কথা বলে আমিনুল তার কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন। সেই টাকা ফেরত নেওয়া হয়েছে।
তবে সেই মাদক কারবারি আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, ঘটনার দিন দুপুরের সময় এএসআই মিথুন তার কাছে ১৮ পিস ইয়াবা বিক্রি করেন। পড়ে রাত্রি বেলা তার বাড়িতেই এএসআই মিথুন তল্লাশি করেন। পড়ে ভয়ভিতী দেখিয়ে তার কাছে থেকে ১০ হাজার টাকা নেয়া হয়।
এএসআই মিথুন বলেন, বিষয়টি ভিন্ন রকম। আমি আমিনুলকে সোর্স হিসেবে ব্যবহার করেছি। সে আমাকে কাজ দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছিল। পরে সেই টাকা আমি তার কাছ থেকে নিয়েছি।
তিনি আরও দাবি করেন, আমিনুল বিভিন্ন সময়ে তার কাছে মাদক চাইতেন। এর আগে তাকে দুই পিস মাদক দেওয়ার কথাও স্বীকার করেন এএসআই মিথুন। তবে তার দাবি, আমিনুল তাকে কাজ করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন বলেই তার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল।
এ বিষয়ে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী বলেন, এ ধরনের কোনো তথ্য আমার জানা নেই। তবে অভিযোগগুলো তদন্তে সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

No comments