শিরোনাম

বিশ্ববাজারে আরও বাড়ল আকরিক লোহার দাম

চ্যানেল টেন ডেস্কঃ

চীনের শিল্প কারখানায় উৎপাদন বৃদ্ধির ইতিবাচক খবরে বিশ্ববাজারে আবারও চাঙা হয়ে উঠেছে আকরিক লোহার দাম।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) চীনের ডালিয়ান কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (ডিসিই) টানা দ্বিতীয় দিনের মতো এই কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি পেতে দেখা গেছে।

সংবাদমাধ্যম বিজনেস রেকর্ডার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার লেনদেনের এক পর্যায়ে ডালিয়ান এক্সচেঞ্জে আগামী সেপ্টেম্বরের জন্য নির্ধারিত আকরিক লোহার দাম শূন্য দশমিক ৫১ শতাংশ বেড়ে প্রতি টন ৭৮৭ দশমিক ৫ ইউয়ানে (প্রায় ১১৫ দশমিক ১৫ ডলার) পৌঁছায়। চলতি সপ্তাহে সব মিলিয়ে এই দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ।

তবে ছুটির কারণে আগামী ১ মে থেকে ৫ মে পর্যন্ত চীনের সব বাজার বন্ধ থাকবে। এদিকে সিঙ্গাপুর এক্সচেঞ্জে লৌহ আকরিকের দাম সামান্য কমলেও সপ্তাহজুড়ে সেখানেও শূন্য দশমিক ৩৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে।

চীনের সরকারি তথ্য (পিএমটি আই) অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা থাকলেও চীনের শিল্প উৎপাদন টানা দ্বিতীয় মাসের মতো ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। এপ্রিলে ম্যানুফ্যাকচারিং সূচক ৫০ দশমিক ৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি এই সূচক। মূলত শক্তিশালী উৎপাদন এবং পণ্য মজুতের প্রবণতা চীনের অর্থনীতির এই ঘুরে দাঁড়ানোকে ত্বরান্বিত করছে।

উৎপাদন বাড়লেও ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে কাঁচামালের বাড়তি খরচ বৈশ্বিক ইস্পাত কোম্পানিগুলোর কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। চীনের বৃহত্তম তালিকাভুক্ত ইস্পাত প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বাওশান আয়রন অ্যান্ড স্টিল জানিয়েছে, প্রথম প্রান্তিকে তাদের নিট মুনাফা ৮ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। কাঁচামালের দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ বাড়লেও উৎপাদিত ইস্পাতের দাম ৪ দশমিক ৪ শতাংশ কমে যাওয়ায় কোম্পানিটির লাভের অংকে টান পড়েছে।

বাজারের এই ইতিবাচক ঢেউ লেগেছে ইস্পাত তৈরির অন্যান্য উপকরণেও। ডালিয়ান বাজারে কোকিং কোল এবং কোকের দাম বেড়েছে যথাক্রমে শূন্য দশমিক ৯১ শতাংশ ও শূন্য দশমিক ৬৯ শতাংশ। এ ছাড়া সাংহাই ফিউচার এক্সচেঞ্জে রিবার, হট-রোলড কয়েল এবং স্টেইনলেস স্টিলের দাম বাড়লেও সামান্য কমেছে ওয়্যার রডের দাম।

বিশ্লেষকদের মতে, চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে খরচ করার প্রবণতা কিছুটা কম থাকলেও বিশ্ববাজারের চাহিদার ওপর ভর করে দেশটি তাদের প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখতে সক্ষম হচ্ছে। তবে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আগামীতে বিদেশের বাজারে রপ্তানি চাহিদা কিছুটা কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

No comments