রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে বগুড়াকে আধুনিক সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা হবে
বাংলাদেশে প্রতিহিংসার রাজনীতি সর্বত্র কোনো সুফল বয়ে আনেনি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী আন্তর্জাতিক চান্দু স্টেডিয়াম রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে আজ খেলার মাঠ হিসেবে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন,জামায়াতে ইসলামী যদি দেশ পরিচালনার সুযোগ পায়, তাহলে মর্যাদার সঙ্গে চান্দু স্টেডিয়ামকে আবার নতুন জীবন দেওয়া হবে। সেখানে পুনরায় আন্তর্জাতিক খেলার আয়োজন করা হবে।
বগুড়াকে উত্তরবঙ্গের রাজধানী আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন,সাতমাথা পুরো উত্তরবঙ্গকে সংযুক্ত করেছে। জামায়াত রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে বগুড়াকে আধুনিক সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা হবে।
বগুড়ার শিক্ষা ও শিল্পে গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আক্ষেপ করে বলেন,উত্তরবঙ্গের বহু জেলায় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছে, অথচ বগুড়ায় আজও একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নেই। আল্লাহ যদি আমাদের সেই সুযোগ দেন, জনগণের টাকায় এখানে একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হবে। জামায়াত দলীয় তহবিল নয়, জনগণের অর্থ দিয়েই উন্নয়ন করবে।
একই বক্তব্যে তিনি বলেন,বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এই অর্থ জনগণের। আমরা চেষ্টা করব পাচার হওয়া সেই অর্থ ফিরিয়ে এনে জনগণের উন্নয়নে ব্যয় করতে।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন,চোরদের হাত কেটে দেওয়া হবে রাষ্ট্রের টাকা চুরি করতে দেওয়া হবে না। ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা হবে।
চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে তিনি বলেন,চাঁদাবাজদের কারণে আজ কৃষক ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। বাজার ব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীদের চাঁদার বোঝা গিয়ে পড়ছে সাধারণ জনগণের ঘাড়ে।
তিনি আরও বলেন,আমরা শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলব।
দীর্ঘদিনের নির্যাতনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন,অত্যাচার-নির্যাতনের পরও জামায়াতে ইসলামী নিজেদের হাত পরিষ্কার রাখতে পেরেছে। আমরা কথা দিয়েছিলাম আমাদের কর্মীরা চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও মামলা বাণিজ্যে জড়াবে না। জনগণ তার সাক্ষী।
অতীতের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে তিনি বলেন,একদল সরকারে আসার আগে ১০ টাকা কেজি চাল দেওয়ার কথা বলেছিল। কে কে সেই চাল পেয়েছেন, যারা অতীতে জনগণকে ধোঁকা দিয়েছে, এবার মানুষ আর সেই ধোঁকায় বিশ্বাস করবে না।
সবশেষে তিনি বলেন,আমরা যা করব, তা ব্যক্তিগত সম্পত্তি থেকে নয় জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় করা হবে।
No comments