শিরোনাম

বগুড়ায় চেকপোস্টে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে গণধোলাইয়ের শিকার পুলিশ সদস্য

বগুড়া প্রতিনিধিঃ

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে মোটরসাইকেল চালকের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে আব্দুল খালেক নামে এক পুলিশ সদস্য গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে ধুনট–শেরপুর আঞ্চলিক সড়কের হুকুম আলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আব্দুল খালেক ধুনট থানায় কর্মরত বলে জানা গেছে।

থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে হুকুম আলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় টিএসআই আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে একটি চেকপোস্ট বসানো হয়। চেকপোস্টে আব্দুল খালেক ও আব্দুল হামিদ নামে দুই পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় মোটরসাইকেলের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই চলছিল।

তল্লাশির এক পর্যায়ে হেলমেট না থাকায় একটি মোটরসাইকেল চালকের বিরুদ্ধে মামলা দেন টিএসআই আবুল কালাম আজাদ। একই সময় অপর একটি মোটরসাইকেল থামিয়ে চালকের কাছ থেকে এক হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে পুলিশ সদস্য আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে ধরে গণধোলাই দেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আব্দুল খালেক কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এ সময় উত্তেজিত জনতা ঘটনাস্থলে থাকা অন্য পুলিশ সদস্যদের ঘেরাও করে রাখে।

খবর পেয়ে ধুনট থানার এসআই মোস্তাফিজার রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিচার করা হবে—এমন আশ্বাস দিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য আব্দুল খালেক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ঘটনাস্থলে জনগণ আমার দেহ তল্লাশি করেও কোনো টাকা পায়নি। তারপরও মিথ্যা অভিযোগে আমাকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে।”

অন্যদিকে টিএসআই আবুল কালাম আজাদ বলেন, “সিনিয়র কর্মকর্তাদের নির্দেশে ওই এলাকায় চেকপোস্ট বসানো হয়। আমি একটি মোটরসাইকেলের কাগজপত্র যাচাই করছিলাম। এ সময় আব্দুল খালেক অন্য একটি মোটরসাইকেল আটক করে ছেড়ে দেয়। সে টাকা নিয়েছে কি না, তা আমি নিশ্চিত নই। তবে উত্তেজিত জনতা তাকে লাঞ্ছিত করেছে।” ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

No comments