শিরোনাম

হাড় কাপানো শীতে যবুথবু কুড়িগ্রামের মানুষ,পাচ্ছেন না শীত নিবড়নের বস্তু

 


মোঃ মশিউর রহমান বিপুল, কুড়িগ্রাম 

নদনদী বেস্টিত,  সীমান্ত ঘেঁষা ও হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত জেলা কুড়িগ্রাম। হারকাপানো শীত ও হিমেল হাওয়ায় যবুথবু এ জেলার মানুষ। এবছর শীত রাতভর বৃষ্টির মত ফোটায় ফোটায় ঝরে পড়ছে কুয়াশা।

বিকাল থেকে  শুরু করে পরদিন সকাল ৯ টা  পর্যন্ত স্থানভেদে  মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশায় ডেকে থাকছে চারিপাশ।।সেই সাথে শিরশিরে বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় সূর্যদোয়ের আগ পর্যন্ত তীব্র শীত অনুভুত হচ্ছে। বেলা গড়িয়ে অনেক দেরিতে সূর্যের দেখা মিলায় বিপাকে পড়েছে শ্রমজিবী ও নিম্নআয়ের মানুষ। গত ৩ দিন থেকে সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। 

আজ সকাল ৬ টায় সর্বনিম্ন  তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করেছে রাজারহাট উপজেলা আবহাওয়া অধিদপ্তর। এসময় বাতাসের আদ্রতা ছিল ১০০ ভাগ। 

ঘন কুয়াশা ও উওরীয় হিমেল হাওয়ার কারণে কাজে যেতে না পারছে না শ্রমজীবীরা। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা  ইউনিয়নের শহিদ মিয়া  বলেন কাজ না করলে পেঁটে ভাত যায় না।কিন্তু এই শীতে কাজ করলে হাত-পা জ্বালা পোড়া করে, শরীর কামড়ায়। 

ফুলবাড়ি উপজেলার ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দা খোকন মিয়া বলেন হামরা গুলা গরিব মানুষ কম্বল কেনার টাকা নাই।এখন পর্যন্ত কোন মেম্বার, চেয়ারম্যান কাইয়ো কম্বল দিলো না মোক।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের সফিকুল বলেন অতিরিক্ত  শীতের প্রভাবে মোর একটা ছোট বাচ্চা  জ্বর,সর্দি,কাশিতে কয়েকদিন থেকে ভুগতেছে।

এবিষয়ে কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন ডা:স্বপন  কুমার বিশ্বাস জানান শীতের প্রভাবে অন্যান্য সময়ের তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেড়েছে।বিশেষ করে ডাইরিয়া,নিউমনিয়া ও শাসকষ্টের রোগীর সংখ্যা বেড়েছে।কেউ  বহির্বিভাগে চিকিৎসাপত্র  গ্রহণ করছে। আবার কোন কোন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। 

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান এবছর শীতে ৯ টি উপজেলায় অসহায় দুঃস্থ মানুষদের মাঝে  প্রথম পর্যায়ে ২২ হাজার কম্বল  ও নগদ ৫৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিতরণ কার্যক্রম  চলমান রয়েছে।

No comments