শিরোনাম

গ্যাস সংকটে ঢাকা কলেজের হল, লাকড়িতে চলছে রান্নাবান্না

চ্যানেল টেন ডেস্কঃ

দেশে চলমান গ্যাস সংকটের প্রভাবে ঢাকা কলেজের আবাসিক হলগুলোর ডাইনিংয়ে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। লাইনের গ্যাসের সরবরাহ পর্যাপ্ত না থাকায় বিকল্প হিসেবে লাকড়ির চুলা ব্যবহার করে রান্নার কাজ করা হচ্ছে।

রোববার (১৩ আগস্ট) কলেজের দক্ষিণ, দক্ষিণায়ন, আন্তর্জাতিক ও পশ্চিম হলসহ বিভিন্ন আবাসিক হল ঘুরে দেখা গেছে, লাইনে প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ না থাকায় রান্নাঘরের ভেতর লাকড়ি জ্বালিয়ে বিকল্প উপায়ে খাবার তৈরি করছেন বাবুর্চিরা।

ডাইনিংয়ের গ্যাস সংকট বর্ণনা করতে গিয়ে এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘মাঝখানে কিছুদিন ডাইনিং বন্ধও ছিল। দক্ষিণায়ন হলে প্রায় সাতদিনের মতো বন্ধ ছিল। তারা বলে দিয়েছিল যে, গ্যাস সংকটের কারণে এটি বন্ধ রাখা হয়েছে।’

কলেজের দক্ষিণ হলের ম্যানেজার আনোয়ার রহমান বলেন, ‘আমরা লাকড়ি দিয়ে রান্নার কাজ করছি। বর্তমানে গ্যাস নেই বললেই চলে। বিকেল চারটার দিকে গ্যাস চলে যায়। গ্যাস না থাকার কারণে খাবার রান্না করতে দেরি হয়ে যায়। খাবারের সময় হয়ে যায়, কিন্তু রান্না শেষ করা যায় না। আবার সব খাবারও প্রস্তুত করা সম্ভব হয় না। লাকড়ি দিয়ে রান্না করলে খরচ একটু বেশি পড়ে। বর্তমানে কলেজের কিছু লাকড়ি দিয়ে রান্না করছি। এই লাকড়ি শেষ হয়ে গেলে বাইরে থেকে কিনে আনতে হবে। তখন খরচ আরও বেশি পড়বে।’

পশ্চিম হলের ম্যানেজার প্রতাপ বিশ্বাস বলেন, ‘গ্যাস না থাকলে ঠিকমতো রান্না হয় না। রান্না করতে অনেক কষ্ট হয়ে যায়। বৃষ্টির কারণে লাকড়ি ভিজে যাওয়ায় সেগুলো দিয়ে রান্না করতে পারিনি। জামাকাপড় দিয়ে রান্না করতে হয়েছে। গত দুই দিন আমাদের পুরোনো দুটি খাট ছিল, সেগুলো দিয়ে রান্না করেছি।’

আন্তর্জাতিক হলের ম্যানেজার সফিকুল বলেন, ‘গ্যাস একেবারেই নেই। প্রতিদিন রান্না করতে প্রায় ৮০০ টাকার লাকড়ি লাগে। লাকড়ি জোগাড় করে আনতে অনেক কষ্ট হয়।’

এ বিষয়ে ঢাকা কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আনোয়ার মাহমুদ বলেন, ‘গ্যাস সংকট শুধু ঢাকা কলেজের একক কোনো সমস্যা নয়, বরং এটি পুরো ঢাকা শহরের সংকট। শিক্ষার্থীরা যেন ডাইনিং ছেড়ে বাইরে গিয়ে চড়া দামে বা অনিরাপদ খাবার খেতে বাধ্য না হয়, সে লক্ষ্যে হলের ডাইনিং কার্যক্রম সচল রাখাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।’

বিকল্প জ্বালানির সংকট ও ডাইনিং বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপাতত লাকড়ির সংকট হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সাম্প্রতিক ঝড়-তুফানে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে ভেঙে পড়া গাছের ডালপালা কেটে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি হলে চলমান সংস্কারকাজ থেকে পাওয়া কাঠও ডাইনিংয়ের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ডাইনিংগুলোতে প্রয়োজনীয় লাকড়ির পর্যাপ্ত মজুত থাকায় কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার কোনো ঝুঁকি আপাতত নেই।’

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘অক্টোবর মাসের পূজার ছুটির পূর্ব পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে।’

এ বিষয়ে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, ‘গ্যাসের সংকট কেবল কোনো একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়। আবাসিক হল ও ডাইনিংয়ে রান্নাবান্নার কাজ চালিয়ে নেওয়ার জন্য পুরোনো বাতিল কাঠ, ভাঙাচোরা আসবাব ও ঝরে পড়া গাছের ডালপালা ব্যবহার করা হচ্ছে। একসময় লাকড়ির সহজলভ্যতা থাকলেও বর্তমানে গাছপালা কমে যাওয়া এবং লাকড়ির চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এর দাম অনেক বেড়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অতীতে হলে ছাত্ররা নিজেরাই মিল ও ডাইনিং পরিচালনা করতেন। ফলে ছাত্রদের খরচ কম হতো এবং খাবারের গুণগত মানও বজায় থাকত।’

No comments