ফরিদপুরে ফুচকা খাওয়ার সময় হাসাহাসি নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৬
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ফুচকা খাওয়ার সময় উচ্চস্বরে হাসাহাসিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি, পরে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলা পার্কের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন বোয়ালমারী পৌরসভার দক্ষিণ কামারগ্রামের সেলিম শেখের ছেলে হৃত্বিক শেখ (২১) ও মনিরুল ইসলামের ছেলে কাকন (২০)। স্থানীয়দের ভাষ্য, হৃত্বিকের পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। অন্যদিকে কাকনের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে উপজেলা পার্কের সামনে একটি চটপটি-ফুচকার দোকানে হৃত্বিক ও কাকনের পক্ষের ১০ থেকে ১২ জন এবং আনাম, মেহেদী ও সাগরের পক্ষের ১২ থেকে ১৩ জন অবস্থান করছিলেন। এ সময় দ্বিতীয় পক্ষের কয়েকজনকে উচ্চস্বরে হাসাহাসি করতে দেখে প্রথম পক্ষের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে তর্কাতর্কি ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে হৃত্বিক ও কাকন গুরুতর আহত হন। সংঘর্ষে অন্য পক্ষের কয়েকজনও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের কয়েকজন স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। গুরুতর আহত দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা বোয়ালমারী সরকারি কলেজের পুকুরঘাট, অডিটোরিয়াম, রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন এলাকায় কিশোরদের বেপরোয়া আড্ডা ও মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এসব এলাকায় দ্রুত পুলিশি অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বোয়ালমারী থানার ওসি মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। চটপটির দোকানে হাসাহাসিকে কেন্দ্র করেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
তিনি আরও জানান, এখনো কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

No comments