লংমার্চ থেকে ফেরার পথে জামায়াত নেতাকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ
সিরাজগঞ্জে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে আব্দুস সবুর নামে এক জামায়াত নেতাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
শনিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহত আব্দুস সবুর সয়দাবাদ ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমির। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে জামায়াত।
জামায়াতের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সয়দাবাদ ইউনিয়নের সারটিয়া গ্রামের মো. তারার ছেলে হাসান, একই গ্রামের মজনুর ছেলে পারভেজ ও আলামিন এবং দুখিয়াবাড়ি গ্রামের আমজাদের ছেলে হাসানসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা আব্দুস সবুরের ওপর হামলা চালান।
জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের গাড়িবহরকে অভ্যর্থনা জানাতে দুপুরে সয়দাবাদ এলাকায় জামায়াতের নেতাকর্মীরা অবস্থান করছিলেন। লংমার্চের গাড়িবহর চলে যাওয়ার পর তারা বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। এ সময় রফিকুল ইসলাম সরকারের নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীরা আব্দুস সবুরের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, হামলাকারীরা আব্দুস সবুরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করেন। তার হাতের কবজি, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়েছে। একই ঘটনায় নুরনবী নামে আরেক জামায়াত নেতাকেও কিল-ঘুষি মারা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, লংমার্চের আগে রফিকুল ইসলাম সরকারের নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীরা এলাকায় মহড়া দিয়েছিলেন। জামায়াতের নেতাকর্মীর সংখ্যা বেশি থাকায় তারা তখন সেখান থেকে চলে যান বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে জামায়াতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম সরকার।
তিনি বলেন, আল-আমিন নামে বিএনপির এক কর্মী দুপুরে মোহনপুরে বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় জামায়াতের নেতাকর্মীরা তার ভিডিও ধারণ করছিলেন। পরে জামায়াতের আমির সিরাজুল তাকে কলার ধরে ঘোরান, ছাতা দিয়ে মারধর করেন এবং কিল-ঘুষি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, ওই ঘটনার ভিডিও জামায়াতের পক্ষ থেকেই ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে স্থানীয় কয়েকজন আব্দুস সবুরকে ধরে কিল-ঘুষি দেন। কাঠের চেলা দিয়ে আঘাত করা হয়ে থাকতে পারে, যে কারণে তার শরীরে কেটে যাওয়ার মতো জখম হয়েছে। তবে তাকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনার সূত্রপাত জামায়াতের নেতাকর্মীদের হামলার মধ্য দিয়েই হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল হাসান বলেন, হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

No comments