স্যাটেলাইটের ছবিতে নেপালের ধ্বংসযজ্ঞের আগের ও পরের চিত্র
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৯৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় এখনো শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন ভোতে কোশি নদীর তীরবর্তী গ্রাম ও জনপদে আঘাত হানা এই বন্যায় ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু, জলবিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উদ্ধার তৎপরতায় প্রতিকূল আবহাওয়া ও যোগাযোগব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বুধবারের (২৬ আগস্ট) এই আকস্মিক বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাসুয়া ও এর আশপাশের জেলাগুলো। দুর্গত এলাকায় পৌঁছাতে উদ্ধারকারী দলগুলোকে নানা ধরনের প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। একই সঙ্গে নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বন্যার আগে ও পরের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করেছে প্ল্যানেট ল্যাবস। এসব ছবিতে বন্যার ভয়াবহতা ও ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপকতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
প্রকাশিত ছবিতে ২৩ আগস্টের মানাকামানা গ্রামের আশপাশের উপত্যকার চিত্রের সঙ্গে ২৬ আগস্টের বন্যার পরের চিত্র তুলনা করা হয়েছে। একইভাবে নেপালের খাদগা ভঞ্জিয়াং গ্রামেরও ২৩ আগস্ট ও ২৬ আগস্টের স্যাটেলাইট ছবি দেখানো হয়েছে। এতে বন্যার পানির স্রোতে এলাকার ব্যাপক পরিবর্তন ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ফুটে উঠেছে। দুর্যোগের পর নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্রও এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে কর্তৃপক্ষের সামনে বড় ধরনের উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
নেপালের রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ বন্যায় নিখোঁজ প্রায় ৪০০ মানুষের মধ্যে অন্তত ১০৫ জন ভারতীয় এবং ৩৭ জন অনাবাসী ভারতীয় (এনআরআই) রয়েছেন। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের (এনটিবি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় মোট ৩৮৪ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারী নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালের নাগরিক।
নেপালের বন্যা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারতের জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)। বন্যার পানির ঢল গাণ্ডক নদী দিয়ে ভারতের দিকে নেমে আসার আশঙ্কায় বিহার ও উত্তর প্রদেশের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে এনডিআরএফের দল মোতায়েন করা হয়েছে।
বাংলাভিশনের গুগল নিউজ ফলো করতে ক্লিক করুন
এনডিআরএফ জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় পানি কমিশন (সিডব্লিউসি) ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে নেপালের ফুরকে খোলায় ত্রিশূলী নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ওই এলাকা ভারতীয় সীমান্ত থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দূরে। নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে হিমবাহ-সৃষ্ট হ্রদের আকস্মিক পানি বিস্ফোরণ বা গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাডের (GLOF) সঙ্গে এর যোগসূত্র থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গাণ্ডক নদী দিয়ে বন্যার ঢল নিচের দিকে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কায় ভারত-নেপাল সীমান্তবর্তী বিহার ও উত্তর প্রদেশের স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভয়াবহ বন্যার পর নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের সঙ্গে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি নেপালকে সম্ভাব্য সব ধরনের মানবিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোদি বলেন, নেপালে বন্যায় প্রাণহানির ঘটনায় তিনি শোক প্রকাশ করেছেন। এই কঠিন সময়ে ভারতের জনগণ নেপালের মানুষের পাশে রয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে ভারত নেপালের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করছে বলেও জানান তিনি।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

No comments