সূর্যগ্রহণ দেখতে শেষ মুহূর্তে চশমার হুড়োহুড়ি, দোকানে দীর্ঘ লাইন
সূর্যগ্রহণ দেখার প্রস্তুতিতে শেষ মুহূর্তে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ চশমা কিনতে মানুষের ভিড় বেড়েছে। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন দোকানে চশমা কিনতে ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
লন্ডনের গ্রিনউইচে ন্যাশনাল মেরিটাইম মিউজিয়ামের দোকানে সূর্যগ্রহণের চশমা কিনতে মানুষের সারি ভবনের বাইরে চলে যায়। পরে সেই লাইন পাশের রাস্তার মোড় পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
লাইনে দাঁড়ানো ইয়ান স্মিথ বলেন, এত মানুষের ভিড় হবে বলে তিনি ধারণা করেননি। তবে লাইন দ্রুত এগোচ্ছিল। প্রায় ১০ মিনিট অপেক্ষা করার পর তিনি দোকানের দরজার কাছে পৌঁছান।
তীব্র গরমে অপেক্ষা করা নিয়ে তিনি বলেন, ১০ মিনিট খুব বেশি সময় নয়, কিন্তু এমন গরমে সময়টা অনেক দীর্ঘ মনে হচ্ছে।
অন্যদিকে মার্গারেট উইলসন বড় একটি নীল ছাতা নিয়ে রোদ থেকে নিজেকে রক্ষা করছিলেন। তিনি জানান, তার বাড়ি কাছেই। তাই চশমা কিনে বাড়ি ফিরে আবার সূর্যগ্রহণ দেখার জন্য বের হতে পারবেন।
কয়েক ঘণ্টায় বিক্রি ৫০০ চশমা
যুক্তরাজ্যের কনভির কলউইন বে এলাকাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে ক্যামব্রিয়ান ফটোগ্রাফি নামের একটি ক্যামেরার দোকানে সূর্যগ্রহণের বিশেষ চশমা কিনতে ক্রেতাদের লাইন দোকানের দরজা ছাড়িয়ে রাস্তায় চলে যায়।
দোকানটির ব্যবস্থাপক জোয়েল লংবোন জানান, মাত্র কয়েক ঘণ্টায় ৫০০ জোড়া চশমা বিক্রি হয়ে যায়। এত বেশি চাহিদা তৈরি হবে, তা তারা ধারণা করেননি।
তিনি বলেন, আগের দিন মাত্র তিন মিনিটে ৫০ জোড়া চশমা বিক্রি হয়েছিল। এরপর আরও ৫০০ জোড়া চশমা আনার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু স্থানীয় সময় সকাল ১১টার মধ্যেই সেগুলোও বিক্রি হয়ে যায়।
ফলে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক ক্রেতাকে চশমা না কিনেই ফিরে যেতে হয়। চাহিদা সামলাতে শুরুতে একজন ক্রেতার জন্য সর্বোচ্চ দুই জোড়া চশমা কেনার সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরে কিছু দোকানে একজন ক্রেতাকে মাত্র এক জোড়া করে চশমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো বিপজ্জনক
সূর্যগ্রহণ দেখার আগ্রহের পাশাপাশি চোখের নিরাপত্তা নিয়েও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
রয়্যাল কলেজ অব অপথ্যালমোলজিস্টসের প্রেসিডেন্ট মোহামেদ এলালফি বলেন, সরাসরি সূর্যের দিকে তাকালে চোখের রেটিনার ক্ষতি হতে পারে। পরিষ্কার ও কেন্দ্রীয় দৃষ্টির জন্য রেটিনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, রেটিনায় ব্যথা অনুভব করার ক্ষমতা নেই। ফলে সূর্যের দিকে তাকিয়ে চোখের ক্ষতি হলেও তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি টের নাও পাওয়া যেতে পারে। পরবর্তী সময়ে গুরুতর দৃষ্টিশক্তির সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সূর্যের দিকে সরাসরি তাকানোর ফলে চোখের ক্ষতি স্থায়ীও হতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের মধ্যে দৃষ্টিশক্তি আংশিকভাবে ফিরে আসতে পারে।
পুরোনো সূর্যগ্রহণের চশমা নয়
১৯৯৯ সালের সূর্যগ্রহণের সময় ব্যবহার করা পুরোনো চশমা এবার ব্যবহার করা যাবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা পুরোনো চশমা ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন।
মোহামেদ এলালফির মতে, পুরোনো চশমাগুলোর নিরাপত্তা মান বর্তমান সময়ের মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। তাই সূর্যগ্রহণ দেখার সময় নতুন ও নির্ধারিত নিরাপত্তা মানসম্পন্ন বিশেষ চশমা ব্যবহার করাই নিরাপদ। সূত্র: বিবিসি

No comments