গাবতলীতে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ ২ জনকে পিটিয়ে জখম, থানায় অভিযোগ
বগুড়ার গাবতলী উপজেলার সদর ইউনিয়নের চকসদু গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে এক ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার মাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। গত ১ জুলাই বিকেলে আনুমানিক ৪:২০ মিনিটে চকসদু গ্রামের মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
এই নৃশংস হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী মোছাঃ সুফিয়া বেগম (৪৫) বাদী হয়ে গাবতলী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চকসদু গ্রামের মৃত হাফেস প্রাং-এর স্ত্রী সুফিয়া বেগমের সাথে তার ভাগী-শরিকদের বসতবাড়ির জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন ১ জুলাই বিকেলে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বিবাদী মোঃ মুকুল (৩৫), মোঃ লাল মিয়া (৫০), মোঃ শিহাব (১৮), মোছাঃ শিখা বেগম (৪২) এবং মোঃ রুবেল (৫৫) সহ একদল লোক লাঠি-সোটা, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে সুফিয়া বেগমের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে।
গালিগালাজ করতে নিষেধ করায় ১ নং বিবাদী মোঃ মুকুল তার হাতে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে সুফিয়া বেগমের মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করলে তা তার বাম কানে লেগে রক্তাক্ত জখম হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসকরা তার কানে ৫টি সেলাই দেন। সুফিয়া বেগম মাটিতে লুটিয়ে পড়লে অন্য বিবাদীরা তাকে লাঠি ও রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে।
এ সময় সুফিয়া বেগমের ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে মোছাঃ হাউশি খাতুন (২৬)—যিনি সন্তান প্রসবের জন্য গত ৩০ জুন বাবার বাড়িতে এসেছিলেন—মাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে ৩ নং বিবাদী মোঃ শিহাব কাঠের বাটাম দিয়ে তার পিঠে, হাতেসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে সজোরে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। এতে তিনি মাটিতে আছড়ে পড়েন এবং তার গর্ভের সন্তান মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় লোকজন ও সাক্ষীরা তাদের চিৎকার শুনে এগিয়ে এসে মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে দ্রুত গাবতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান। হামলাকারীরা যাওয়ার সময় ভুক্তভোগীদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যায়।
এ বিষয়ে গাবতলী মডেল থানার ডিউটি অফিসার গোলাম মোস্তফা জানান, লিখিত অভিযোগটি পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

No comments