শিরোনাম

বগুড়ায় মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়ার নামে ঘুষ দাবির অভিযোগ এসআই'র বিরুদ্ধে

বগুড়া প্রতিনধিঃ

বগুড়ার শাজাহানপুর থানার এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়ার কথা বলে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগে ভুক্তভোগী দাবি করা মামলার আসামি মামুনুর রশিদ গত ২৩ জুন ২০২৬ তারিখে বগুড়ার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগের অনুলিপি রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজিকেও দেওয়া হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে মামুনুর রশিদ উল্লেখ করেন, শাজাহানপুর উপজেলার সুলতানগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা এসএম আব্দুল্লাহ যুবাইর বাদী হয়ে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তাকে ৭ নম্বর আসামি করা হয়। তার দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরোধিতা করে আসছিলেন এবং বিভিন্ন সময় প্রশাসন ও সাংবাদিকদের বিষয়টি অবহিত করেছিলেন। এ কারণেই মাটি ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের যোগসাজশে তাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাজাহানপুর থানার এসআই আল-আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য ১ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে বিষয়টি তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের জানালে শাজাহানপুর থানার ওসি তাকে টাকা না দেওয়ার পরামর্শ দেন এবং জড়িত না থাকলে নাম বাদ যাবে বলে আশ্বাস দেন।

তবে পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, এসআই আল-আমিন আদালতে মামলার চার্জশিট দাখিল করেছেন এবং সেখানে তার নাম অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে। চার্জশিটে তার নাম ও পিতার পরিচয়েও ভুল তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, সঠিক তদন্ত না করেই এবং ঘুষের টাকা না পাওয়ায় হয়রানির উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে মামলার আসামি ও অভিযোগকারী মামুনুর রশিদ বলেন, "আমি মাটি কাটার কাজে বাধা দেওয়ায় আমার নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। পরে এসআই আল-আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি মামলার ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়ার নামে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। আমি টাকা না দেওয়ায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা চার্জশিট দিয়েছেন। আমি ওই কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শাজাহানপুর থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) আল-আমিন বলেন, "আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।"

এ বিষয়ে জানতে বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাঠানো হলেও সংবাদ প্রকাশ পর্যন্ত কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া মুখপাত্র) আতোয়ার রহমান বলেন, "কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে তা তদন্ত করা হয়। এ অভিযোগটিও তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

No comments