গাবতলীতে খড়ের পালায় অগ্নিসংযোগ, জমিতে বিষ প্রয়োগ; চিরকুটে হুমকির অভিযোগ
বগুড়ার গাবতলী উপজেলার কাগইল ইউনিয়নের বেলতলা গ্রামে স্থানীয় হিন্দু ধর্মীয় আশ্রমের পত্তনকৃত জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক কৃষকের পাটের জমিতে বিষ প্রয়োগ, খড়ের পালায় অগ্নিসংযোগ এবং হুমকিমূলক চিরকুট রেখে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. সাইদুল ইসলাম গাবতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মো. সাইদুল ইসলাম দীর্ঘ ২০-২৫ বছর ধরে স্থানীয় হিন্দু ধর্মীয় আশ্রমের পত্তনকৃত জমিতে চাষাবাদ করে আসছেন। কয়েকদিন আগে দুর্বৃত্তরা তার পাটের জমিতে বিষ প্রয়োগ করে ফসল নষ্ট করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ জুন দিবাগত রাতে তার বসতবাড়ির খুলিয়ানে রাখা খড়ের পালায় অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে খড় পুড়ে তার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অগ্নিসংযোগের পর ঘটনাস্থলে একটি কম্পিউটারে টাইপ করা হুমকিমূলক চিরকুট রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। চিরকুটে লেখা ছিল, "তোর দিন কেবল শুরু, ভালোর ভালোই জমিটা ছেড়ে দে। না হলে তোর বিপদ আছে। খেলাতো এটাই না, খেলা কেবল শুরু।" এরপর থেকে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় আশ্রমের সাধারণ সম্পাদক অনিস চন্দ্র দাস জানান, প্রায় ২০-২৫ বছর আগে আশ্রমের পত্তনকৃত জমিটি মো. সাইদুল ইসলামের কাছে পত্তন দেওয়া হয়। তিনি নিয়মিত পত্তনের অর্থ পরিশোধ করেন এবং তার বিরুদ্ধে আশ্রমের কোনো অভিযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, এর আগে এলাকার কয়েকজন যুবক জমিটি খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব দিলেও আশ্রম পরিচালনা কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আশ্রমের জমি খেলার মাঠের জন্য দেওয়া হবে না।
ভুক্তভোগী মো. সাইদুল ইসলাম জানান, এলাকার কয়েকজন যুবক আগেও তাকে জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। তিনি রাজি না হওয়ার পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে তার ক্ষতি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে গাবতলী থানার ডিউটি অফিসার জানান, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

No comments