শিরোনাম

বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পুলিশ ফাঁড়ি

চ্যানেল টেন ডেস্কঃ

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার জিউধরা ইউনিয়নের লক্ষীখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে চলছে পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম। বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলার তিনটি কক্ষ ও শৌচাগার পুলিশ ফাঁড়ির দখলে রয়েছে। বিদ্যালয়ের নিচতলায় টিনের বেড়া দিয়ে তিনটি অস্থায়ী কক্ষ তৈরি করে পাঠদান চালানো হচ্ছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্কুল ভবনের কয়েকটি কক্ষে পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তা আর সরানো হয়নি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নীরা রানী তাফালী বলেন, বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রায় ১৩০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। একই ভবনে চলছে পুলিশি কার্যক্রম। বিষয়টি একাধিকবার কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

সহকারী শিক্ষক মালা আক্তার বলেন, শিক্ষার্থীদের আমরা ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধাও দিতে পারছি না। প্রচণ্ড গরমে ফ্যান নেই, আলো-বাতাসের সংকট রয়েছে। এতে করে শিশুদের পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

আরেক শিক্ষক মহিউদ্দিন স্বপন বলেন, একই ভবনে পুলিশি কার্যক্রম চলায় স্কুলের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। শিশু শিক্ষার্থীরা অনেক সময় ভয় পায়। এটি শিক্ষার জন্য মোটেও সহায়ক নয়।

অভিভাবক ইলিয়াস আলী বলেন, আমাদের সন্তানরা গরু রাখার জায়গায় বসে পড়াশোনা করছে—এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। না আছে আলো, না আছে শৌচাগার। এভাবে ভালো শিক্ষা সম্ভব নয়।

অভিভাবক কল্পনা রানী বিশ্বাস বলেন, বিদ্যালয়ে সবসময় পুলিশের আনাগোনা থাকে। এতে বাচ্চারা আতঙ্কিত থাকে। দ্রুত ফাঁড়ি সরিয়ে নেওয়া জরুরি।

অভিভাবক ফাতেমা বেগম বলেন, আমরা চাই আমাদের সন্তানরা নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে পড়াশোনা করুক। এই অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন দরকার।

জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মুহাম্মদ মহিদুর রহমান বলেন, ফাঁড়িটির জন্য ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণ শেষে ফাঁড়ি স্থানান্তর করা হবে। তবে এর আগে সাময়িকভাবে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, একই ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম ও পুলিশি কার্যক্রম একসঙ্গে চলা উচিত নয়। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সুপারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

No comments