শিক্ষকের গাফিলতিতে দাখিল পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত ছাত্রী: ন্যায়বিচারের দাবিতে ক্ষোভ
নীলফামারীর ডোমারের চিলাহাটি ফাজিল মাদ্রাসায় এক শিক্ষকের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি সুমাইয়া নামের এক শিক্ষার্থী। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য সুমাইয়া নির্ধারিত সময়ে ফরম পূরণের টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র শিক্ষক ইব্রাহিমের কাছে জমা দেন। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ওই শিক্ষক ফরম পূরণের টাকা বোর্ডে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রেখে দেন। ফলে পরীক্ষা শুরুর আগের দিন অন্যান্য শিক্ষার্থীরা প্রবেশপত্র পেলেও সুমাইয়া তার প্রবেশপত্র থেকে বঞ্চিত হয়।
ভুক্তভোগী ছাত্রী সুমাইয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, “আমি সময়মতো ফরম পূরণের টাকা ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড স্যারের কাছে জমা দিয়েছি। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর আগের দিন জানতে পারি, আমার ফরমই পূরণ করা হয়নি। এতে আমার একটি বছর নষ্ট হয়ে গেল।”
সুমাইয়ার পরিবারের সদস্যরা জানান, বিষয়টি সমাধানের জন্য তারা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হন। কিন্তু কোনো কার্যকর সমাধান পাননি। পরবর্তীতে পরিবারের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীকে কিছু টাকা দিয়ে আগামী বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণের আশ্বাস দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষক ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে এর আগেও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন বলেও জানা গেছে। মাদ্রাসার জমিজমা নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ইব্রাহিমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জাকির হোসেন বলেন, “শিক্ষার্থী সুমাইয়ার ফরম পূরণের টাকা গোপন রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।”
এ ঘটনায় এলাকাবাসী দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

No comments