শিরোনাম

প্রকাশ্য দিবালোকে অপহরণের পর নির্মম নির্যাতনে হত্যা: গ্রেফতারহীন আসামিরা


স্টাফ রিপোর্টারঃ

বগুড়া শহরের ফতেহ আলী বাজারে কাঁচামাল ব্যবসায়ীদের নির্বাচনী উৎসব মুহূর্তেই পরিণত হয় রক্তাক্ত বিভীষিকায়। গত ২৮ মার্চ সকালে ভোট দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ব্যবসায়ী আলাল শেখকে প্রকাশ্য দিবালোকে অপহরণের পর নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ সশস্ত্র দলের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর ৩ এপ্রিল ঢাকার একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

পরিবারের অভিযোগ, পূর্বপরিকল্পিতভাবে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল আলাল শেখকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে শহরের সেউজগাড়ী এলাকার ডাবতলা এলাকায় নিয়ে তাকে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। 

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী, হামলাকারীরা হাতুড়ি দিয়ে তার হাত-পা ভেঙে দেয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে পায়ের রগ কেটে দেয় যা নৃশংসতার চরম উদাহরণ। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। টানা কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত ৩ এপ্রিল রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভোরে তার মৃত্যু হয়। 

পরিবারের দাবি প্রকাশ্যে ঘুরছে আসামিরা। 

নিহতের ছেলে আমির শেখ বলেন, “আমার বাবাকে প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা হামলাকারীদের চিনি, সিসিটিভিতেও তাদের দেখা গেছে। কিন্তু এখনো কেউ গ্রেফতার হয়নি।” 

নিহতের পিতা সিদ্দিকুর রহমান অভিযোগ করেন,

“এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমরা বিচার চাই, কিন্তু এখনো মূল আসামিরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।”

স্ত্রী সালমা খাতুন বলেন,“আমার স্বামী মৃত্যুর আগে নিজেই বলেছেন কীভাবে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। আমরা শুধু ন্যায়বিচার চাই।” 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর আগে আলাল শেখ নিজেই তার ওপর চালানো নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, অপহরণের পর তাকে দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। 

পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজে হামলাকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তবে সেই ফুটেজের ভিত্তিতে দ্রুত গ্রেফতার না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 

এদিকে বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। 

এদিকে বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন,

“ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” 

নির্বাচন ঘিরে সহিংসতার পুনরাবৃত্তি স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, বাজার কমিটি বা ব্যবসায়ী সংগঠনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনা নতুন নয়। 

তবে প্রকাশ্য দিবালোকে অপহরণ ও এ ধরনের বর্বর নির্যাতনের ঘটনা জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। 

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত গ্রেফতার ও নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে এ ধরনের অপরাধে দৃষ্টান্তমূলক প্রতিরোধ গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়বে। একটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। 

এখন দেখার বিষয় কত দ্রুত আইনের আওতায় আনা হয় অভিযুক্তদের এবং কবে নিশ্চিত হয় আলাল শেখ হত্যার ন্যায়বিচার।

No comments