শিরোনাম

‘আমি হতে চাই প্রথম বাংলাদেশি’

চ্যানেল টেন ডেস্কঃ

বাংলাদেশ জাতীয় রাগবি দলের অধিনায়ক ও পেশাদার খেলোয়াড় নাফি খন্দকার—১৮ বছরেরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক অভিজ্ঞতা নিয়ে গড়ে ওঠা এক প্রতিভাবান অ্যাথলেট। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় নিজের ক্যারিয়ার এগিয়ে নিচ্ছেন।

ফুলব্যাক ও উইং পজিশনে সমান দক্ষ এই বহুমুখী খেলোয়াড় ক্যান্টারবেরি-ব্যাংকস্টাউন বুলডগসের এলিট ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিকশিত হয়ে সেন্ট জর্জ ইলাওয়ারা ড্রাগনস ও লন্ডন ব্রঙ্কোস একাডেমির কাঠামোতে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। 

বর্তমানে তিনি নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিযোগিতায় রাইড-ইস্টউড হকসের হয়ে খেলছেন। এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তিনি এখন লক্ষ্য স্থির করেছেন অস্ট্রেলিয়ার পেশাদার রাগবি লিগ এনআরএলে প্রথম বাংলাদেশি খেলোয়াড় হিসেবে জায়গা করে নেওয়ার। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সাংবাদিক ব্র্যাড ওয়াল্টারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের লক্ষ্য, সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশে রাগবি লিগের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন।

বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়া থেকে কোনো খেলোয়াড় এখনো এনআরএলে জায়গা করে নিতে পারেননি। যদিও ওয়েস্ট টাইগার্স এবং ম্যানলি ওয়ারিঙ্গা সি ঈগলস-এর মতো ক্লাবগুলোতে বিভিন্ন দেশের বংশোদ্ভূত খেলোয়াড় রয়েছেন, তবুও বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিধিত্ব এখনো শূন্য। এই বাস্তবতাকে বদলাতেই নিজের যাত্রা শুরু করেছেন নাফি।

নাফি খন্দকার বলেন, “রাগবি লিগ বিশ্বের অন্যতম বহুজাতিক খেলা। এখানে নানা দেশের, নানা সংস্কৃতির খেলোয়াড় রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে কেউ নেই—আমি সেই জায়গাটাই পূরণ করতে চাই।” তিনি আরও বলেন, “আমি যদি এনআরএলে পৌঁছাতে পারি, তাহলে এটা শুধু আমার ব্যক্তিগত অর্জন হবে না—এটা পুরো বাংলাদেশের এবং উপমহাদেশের ক্রীড়াবিদদের জন্য একটি নতুন পথ তৈরি করবে।” তার বিস্ফোরক গতি, স্বাভাবিক খেলার বোধ এবং নেতৃত্বগুণ তাকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে তিনি তরুণ খেলোয়াড়দের অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের রাগবি লিগকে পরিচিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

নাফির মতে, রাগবি লিগ শুধু একটি খেলা নয়, এটি একটি সম্ভাবনার ক্ষেত্র—বিশেষ করে বাংলা ভাষাভাষী বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জন্য। “বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলা ভাষাভাষী মানুষের বিশাল একটি কমিউনিটি রয়েছে। আমি চাই এই খেলাটি তাদের কাছে পৌঁছাক এবং তারা এতে আগ্রহী হোক,”—যোগ করেন তিনি।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে এসে নাফি খন্দকার নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। তার পারফরম্যান্স ও সম্ভাবনা ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নজর কাড়ছে। তিনি পূর্ণকালীন অ্যাথলেট হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্যে স্পন্সরশিপও অর্জন করেছেন। খেলার মাঠের বাইরে তিনি একজন উদ্যোক্তাও—টিকেজি রিয়েল এস্টেটের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং একই সঙ্গে ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসা (মার্কেটিং) বিষয়ে পড়াশোনা করছেন, যা তার বহুমাত্রিক দক্ষতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রতিফলন। বাংলাদেশে বর্তমানে রাগবি দল থাকলেও ক্রিকেটই সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। তবে নাফির বিশ্বাস, সঠিক উদ্যোগ এবং অনুপ্রেরণা থাকলে রাগবি লিগও দেশে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারে।

তার ভাষায়, “একজন খেলোয়াড় যদি পেশাদার পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, তাহলে অন্যরা অনুপ্রাণিত হবে। তখন তারা বলবে—‘আমাদের দেশ থেকেও সম্ভব।’” নাফি খন্দকারের এই যাত্রা শুধু একজন খেলোয়াড়ের স্বপ্ন নয়—এটি বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের গল্প।

No comments