ঝুঁকিপূর্ণ সেতুই দুই উপজেলাবাসীর একমাত্র ভরসা
চ্যানেল টেন ডেস্কঃ
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার পোড়াবাড়ী বাজারে ঝুঁকিপূর্ণ একটি বেইলি সেতু দিয়েই প্রতিদিন দুই উপজেলার লাখ মানুষ পারাপার করছেন। সেতুটির পাটাতনের বহু অংশ ভেঙে গেছে, তবু ছোট যানবাহন ও পথচারীরা বাধ্য হয়ে এটি ব্যবহার করছেন। এতে যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এই বেইলি সেতুর পাশেই প্রায় নির্মাণ শেষ হওয়া একটি নতুন সেতু দাঁড়িয়ে থাকলেও তা এখনো চালু করা যায়নি। সেতুর এক প্রান্তে জমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে মূল সড়কের সঙ্গে সংযোগের কাজ থেমে আছে। ফলে নতুন সেতুর সুফল পাচ্ছেন না স্থানীয়রা, ঝুঁকি নিয়েই পুরোনো সেতু ব্যবহার করতে হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, খিরু নদীর এক পাশে ত্রিশাল উপজেলা, অন্য পাশে ফুলবাড়িয়া উপজেলা। এই নদীর ওপর আশির দশকে নির্মিত হয়েছিল বেইলি সেতুটি। তিন যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়া সেতুটি যানবাহনের ভার আর সইতে পারছে না। চার বছর আগে এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে এলজিইডি বেইলি সেতুটির পাশেই একটি সেতু নির্মাণকাজ শুরু করে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ জটিলতা নিরসন না হওয়ায় দেড় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে সেতুটির নির্মাণকাজ। ফলে প্রতিদিন দুই উপজেলার লাখ মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে বেইলি সেতু পার হতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল হক বলেন, সেতুটি এতটাই নড়বড়ে যে তিন চাকার যান উঠলেই কাঁপতে থাকে। ভাঙা পাটাতনের গর্তগুলো আরও ভয় তৈরি করে। দ্রুত নতুন সেতু চালু করা জরুরি।
মঠবাড়ী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী নাদিয়া জানায়, সেতু পার হওয়ার সময় সবসময় আতঙ্ক কাজ করে। মনে হয়, এই বুঝি পড়ে যাব
ষাটোর্ধ্ব নজরুল ইসলাম বলেন, অনেকেই সেতু পার হতে গিয়ে আহত হয়েছেন। মাঝেমধ্যে অটোরিকশাও উল্টে যায়। দ্রুত নতুন সেতু চালুর দাবি জানাই।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আজহারুল ইসলাম বলেন, এই সেতুটি বহু দুর্ঘটনার সাক্ষী। নতুন সেতু চালুর জন্য বারবার সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি, কিন্তু অগ্রগতি নেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রায় ৭০ মিটার দৈর্ঘ্যের নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকার এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় এমসিই-এমএলএম (জেভি)। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালের ২৬ আগস্ট, তবে জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সময় বাড়িয়েও কাজ শেষ হয়নি।
প্রায় সাড়ে ১৯ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতা রয়েছে। জমির মালিকদের দাবি অনুযায়ী প্রতি শতাংশ জমির মূল্য ২৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। জমির মালিকদের একজন বাসন্তী রানী চৌধুরী বলেন, আমার তিন শতক ভিটা জমি পড়েছে। এখনো টাকা পাইনি। টাকা না পেলে জমি ছাড়ব না।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মকবুল হোসেন বলেন, জমি অধিগ্রহণ ছাড়া সেতুটি ব্যবহারযোগ্য নয়। প্রক্রিয়া শেষ হলেই দ্রুত কাজ শেষ করা সম্ভব।
ত্রিশাল উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) যুবায়ের হোসেন জানান, সেতুর প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। জমির মূল্য নির্ধারণের কাজ চলছে এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই বাকি কাজ দ্রুত শেষ করে সেতুটি চালু করা হবে।
No comments