শিরোনাম

অসময়ের ভাঙনের মধ্যে টানা বৃষ্টি, আতঙ্কে যমুনাপাড়ের মানুষ

চ্যানেল টেন ডেস্কঃ

বর্ষা শুরুর আগেই যমুনা নদীতে তীব্র ভাঙন ও গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের মানুষ। ভাঙনে এক মাসে এই ইউনিয়নের বেশকিছু ফসলিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন এলাকা থেকে প্রায় ২ থেকে ৩০০ মিটার দূরে রয়েছে দুটি বিদ্যালয়, বিদুৎতের অভিযোগ কেন্দ্র, তিনটি গ্রামের শতশত পরিবারে ঘরবাড়ি, গরুর হাটসহ ধীতপুর কুরশি হাট।

এদিকে এখন পর্যন্ত ভাঙন রোধে কোনো পদক্ষেপই নেওয়া হয়নি। পাশাপাশি নদীপাড়ের মানুষের খোজঁখবর না নেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, তিন মাস আগে ভাঙনকবলিত এলাকায় পরিদর্শন করা হয়েছে।ভাঙনকবলিত এলাকায় পানি থাকায় কাজ করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নে তিন বছরে দফায় দফায় যমুনার ভাঙনে নদীগর্ভে চলে গেছে তিনটি মসজিদ, দুটি মাদ্রাসা, বহু বাড়িঘর, ফসলিজমিসহ অনেক স্থাপনা। অনেকে নদীর গর্ভে ঘরবাড়ি হারিয়ে চলে গেছেন অন্যত্র। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই এলাকায় ভাঙনরোধে স্থায়ী সমাধানের পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে এই ইউনিয়নে ভাঙন আতঙ্কে রয়েছেন ধীতপুর, কুরশি ও শ্রীপুর গ্রামের শতশত পরিবার। ভাঙনকবলিত এলাকা থেকে প্রায় সাড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ ফুটের মধ্যে রয়েছে ধীতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুরশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিদুৎতের অভিযোগ কেন্দ্র, গরুর হাটসহ ধীতপুর কুরশি হাট। কুরশি হাটে তিনটি ওষুধের দোকান, দুটি সারের দোকান, মুদি দোকানসহ প্রায় ৬০টির বেশি দোকান রয়েছে। আর কিছুদিন এভাবে ভাঙতে থাকলে এসব স্থাপনাও নদীগর্ভে চলে যাবে বলে আশঙ্কা স্থায়ীদের। ভাঙনের কষ্টের পাশাপাশি বর্তমানে দুশ্চিতায় ফেলেছে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া। টানা বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত ও কালবৈশাখী ঝড় আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন তারা।

ধীতপুর গ্রামের বাচ্চু মোল্লা ও আবুল বেপারী বলেন, আমাদের এলাকায় যমুনা নদীতে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। আর কিছুদিন এভাবে চলতে থাকলে নদীতে ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে না খেয়ে রাস্তায় থাকতে হবে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো অফিসার আমাদের ভাঙনকবলিত এলাকায় আসেননি এবং আমাদের খোজঁখবরও কেউ নেননি।

কুরশি গ্রামের সুজাবত মোল্লা ও ইয়াসিন মোল্লা বলেন, দীর্ঘদিন থেকেই নদীভাঙনের সঙ্গে যুদ্ধ করে চলছি। আমাদের খবর কেউ রাখে না। এখন নদীতে যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে, তাতে যে কোনো সময় আমাদের বাড়িঘর যমুনায় বিলীন হয়ে যেতে পারে।

তারা জানান, নদীভাঙনের পাশাপাশি বর্তমানে টানা বৃষ্টিপাত, বজ্রপাত ও কালবৈশাখীর আতঙ্ক নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন তারা।

সোনাতনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক মো. এ এম সাইদুর রহমান বলেন, আমার ৩০ বিঘা ফসলিজমির মধ্যে গত কয়েক বছরে যমুনা নদীর ভাঙনে প্রায় ১৫-১৬ বিঘা নদীগর্ভে চলে গেছে। ভাঙন রোধে যদি দ্রুত কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে ভাঙনের কবলে পড়ে এই এলাকার শতশত পরিবার নিঃস্ব হয়ে যাবে।

আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির শাহজাদপুর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক ও কুরশি হাটের সার ব্যবসায়ী মো. হাফিজুর রহমান বলেন, যমুনা নদীর ভাঙনে তিন বছরে এই এলাকার মসজিদ-মাদ্রসা, ফসলিজমিসহ বহু ঘরবাড়ি নদীতে চলে গেছে। কুরশি হাটও ভাঙতে ভাঙতে এখন ছোট হয়ে এসেছে। ভাঙন রোধে আমরা বিভিন্ন জায়গায় আবেদন দিয়েছি, কিন্তু কোনো সমাধান পাইনি। বর্তমান সরকারের কাছে আমাদের একটাই চাওয়া, দ্রুত যেন ভাঙন রোধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, আমি নিজে সোনাতনী ইউনিয়নের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। এলাকাটা চরাঞ্চলে হওয়ায় সেখানে সবসময় পানি থাকায় কোনো কাজ করা সম্ভব হয়নি। তারপরেও ওই এলাকায় ভাঙন রোধে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি, আশা করছি খুব দ্রুত একটা সমাধান হবে।

No comments