স্বৈরাচার সরকারের সাবেক মন্ত্রী জুনাইদ পলকের সিন্ডিকেট ওয়াদুদ-সালামদের চলমান অপকর্ম
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ ও এর অধীন বিভিন্ন দপ্তরে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের আমলে গড়ে ওঠা একটি চক্র ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নিজেদের পরিচয় গোপন করে নতুন করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, আইসিটি অধিদপ্তরের প্রোগ্রামার মো. আব্দুল্লাহ বিন ছালাম এই চক্রের অন্যতম সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করছেন। তার বিরুদ্ধে সমন্বয়কদের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তিনি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু সাঈদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
একই চক্রের আরেক সদস্য হিসেবে প্রোগ্রামার ওয়াদুদুর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে একটানা কর্মরত ছিলেন, যেখানে একই পদমর্যাদার অন্য কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট আর্থিক অনিয়ম, টেন্ডার বাণিজ্য এবং বিদেশে সম্পদ গড়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
২০২৩ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগের পর মো. আব্দুল্লাহ বিন ছালামকে নওগাঁ জেলা কার্যালয়ে বদলি করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সুপারিশ ও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) এবং পরে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সিতে বদলি হন বলে জানা গেছে।
এদিকে, জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সিতে যোগদানের পর তিনি ও তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা নিয়মিত বৈঠক ও সংগঠিত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, তারা বিভিন্ন আইসিটি ফোরাম ও পেশাজীবী সংগঠনে উপস্থিত হয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন এবং নিয়োগ, বদলি ও টেন্ডার সংক্রান্ত বিষয়ে অনিয়মে জড়িত রয়েছেন।
এই চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে সহকারী নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার তাজমিলুর রহমান ও মনিরুল ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার করেছেন।
এছাড়া, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে আইসিটি টাওয়ার ঘেরাও কর্মসূচি এবং জাতীয় ডাটা সেন্টারে অগ্নিসংযোগের পরিকল্পনার অভিযোগও সামনে এসেছে। তবে এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। আইসিটি খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে অভিযুক্তদের কারও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

No comments