শিরোনাম

ভয় দেখিয়ে টাকা নিয়ে এসআই বললেন ‘আল্লাহ ভরসা, কোনো সমস্যা নাই’



চ্যানেল টেন ডেস্কঃ

ঢাকা থেকে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় বন্ধুর বাড়ি বেড়াতে আসেন নাবিল হোসাইন। সেখান থেকেই সাদা পোশাকে নাবিল ও তার এক বন্ধুকে তুলে নিয়ে যান শৈলকুপা থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য। তাদের নিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে এক লাখ টাকা দাবি করেন। পরে নিরুপায় হয়ে নাবিল ঢাকায় পরিবারের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে ওই পুলিশ সদস্যদের দিয়ে বিষয়টি রফা করেন।

টাকা দিয়ে ছাড়া পাওয়ার সময় নাবিল কৌশলে ওই ঘটনা মোবাইল ফোনে ভিডিও করেন। পরে তিনি ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেন। ভিডিওতে টাকা নেওয়ার পর থানার এক উপপরিদর্শককে (এসআই) বলতে শোনা যায়, ‘আল্লাহ ভরসা, স্যার যেহেতু বলছে, কোনো সমস্যা নাই।’

শৈলকুপা থানার দুই এসআই ও দুই কনস্টেবলের এমন কাণ্ডের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় জেলা পুলিশ দ্রুত ঘটনার অনুসন্ধান ও তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক তদন্তে হুমকি দেওয়াসহ ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায়ের ঘটনা প্রমাণিত হওয়ায় অভিযুক্ত শৈলকুপা থানার এসআই হুমায়ুন কবির ও এসআই আজগর ফরাজিকে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বড় পরিসরে তদন্ত শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সহকারী পুলিশ সুপার (শৈলকুপা সার্কেল) আক্তারুজ্জামান।

অনুসন্ধান ও ভুক্তভোগীদের ধারণ করা ভিডিও সূত্রে জানা গেছে, নাবিল হোসাইন গত ২৮ মার্চ শৈলকুপা পৌর এলাকার বাজারপাড়ায় তার বন্ধু রিফাত হোসেনের বাড়ি বেড়াতে আসেন। রিফাত ও নাবিলসহ বন্ধুরা মিলে পরদিন সন্ধ্যার দিকে অপর বন্ধু তানভীরের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। তখন চার পুলিশ সদস্য সাদা পোশাকে ঘরে হানা দেন।

ট্যাংকভর্তি তেল নিয়ে প্রতি লিটার বিক্রি করেন ৩০০ টাকায়

চার পুলিশ সদস্য মাদকসামগ্রীর খোঁজ এবং ঘর তল্লাশি করেন। এ সময় একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি দাবি করে নাবিলের বন্ধু রিফাতের হাতে হাতকড়া লাগিয়ে দেন। একপর্যায়ে রিফাতের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন। পরে রিফাত ও নাবিলকে মোটরসাইকেলে তুলে শহরের দিকে নিয়ে গেলে ভয়ে নাবিল ঢাকায় তার বাড়িতে ফোন দেন এবং পুলিশের সঙ্গে ২০ হাজার টাকায় রফা করেন।

শৈলকুপা শহরের কবিরপুরে একটি ব্যাংকের বুথ থেকে ২০ হাজার টাকা তুলে এসআই আজগর ফরাজির হাতে দেন। এ সময় সাদা গেঞ্জি পরা এসআই আজগর বলেন, ‘আল্লাহ ভরসা, স্যার যেহেতু বলছে, কোনো সমস্যা নাই।’ এরপর রিফাত ও নাবিলকে শহরের চৌরাস্তা মোড়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

তবে নাবিল মোটরসাইকেলে যাওয়ার পথে কৌশলে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন। এ ছাড়া টাকা দিয়ে মিটমাট করার সময়ও কৌশলে পুলিশের কথা ভিডিও করেন। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দেন।

জানা গেছে, শৈলকুপা থানার এসআই হুমায়ুন কবিরের নেতৃত্বে এসআই আজগর ফরাজিসহ চারজন এই অভিযান চালান। এসআই হুমায়ুন এর আগে শৈলকুপা থেকে বদলি হলেও অদৃশ্য ক্ষমতাবলে ফের শৈলকুপা থানায় যোগ দেন এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ড চালাতে শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী নাবিল হোসাইন বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ এয়ারফোর্স শাহীন কলেজের শিক্ষার্থী। ঢাকা থেকে বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলাম। হঠাৎ পুলিশ এসে আমাদের ধরে নিয়ে টাকার বিনিময়ে ছাড়ে। আমার কাছে টাকা না থাকায় আজগর নামের ওই পুলিশ তার মোটরসাইকেলে নিয়ে এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলিয়ে নিয়ে মুক্তি দেয়।’

এদিকে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা জানাজানির পরপরই ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে। শৈলকুপা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিযোগের অনুসন্ধানের কথা উল্লেখ করে ৩০ মার্চ একটি জরুরি নোটিশ জারি করেন। নোটিশে রিফাত, তানভীর, সীমান্ত ও তাদের অভিভাবকদের ১ এপ্রিল সার্কেল অফিসে হাজিরের অনুরোধ করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় ৩ এপ্রিল শৈলকুপা থানার এসআই হুমায়ুন ও এসআই আজগর ফরাজিকে পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করা হয়।

অভিযুক্ত শৈলকুপা থানার এসআই হুমায়ুন কবির ওই যুবকদের বাড়ি থেকে ধরে শৈলকুপা শহরে আনা ও ছেড়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও টাকা নেওয়া এবং এজাহারভুক্ত আসামি বলার পর আবার ছেড়ে দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা বলেন, ‘আমি ছুটিতে আছি, আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।’

ঝিনাইদহের সহকারী পুলিশ সুপার (শৈলকুপা সার্কেল) আক্তারুজ্জামান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় শৈলকুপা থানার এসআই হুমায়ুন ও এসআই আজগর ফরাজিকে শৈলকুপা থানা থেকে ক্লোজড করা হয়েছে এবং বৃহত্তর পরিসরে ঘটনার তদন্ত চলছে।


No comments