গ্রেপ্তার আতঙ্কে চট্টগ্রাম বন্দরের আন্দোলনকারীরা
চট্টগ্রাম নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলসহ চার দফা দাবিতে চলমান আন্দোলনকে ঘিরে চট্টগ্রাম বন্দরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের কারণে বন্দরের কনটেইনার পরিবহন কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন,বর্তমান সরকারের আমলে কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে বন্দর ইজারা দেওয়া হবে না। এ ঘোষণার পর আন্দোলন নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান আন্দোলনকারীরা।
এদিকে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের শাস্তিমূলক বদলি ও তদন্তের ঘোষণার পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে রয়েছেন। সংগ্রাম পরিষদের অভিযোগ, আন্দোলনের নামে নৈরাজ্যের অভিযোগ তুলে ডিবি পরিচয়ে ছয়জন শ্রমিক-কর্মচারীকে তুলে নেওয়া হয়েছে, যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা অস্বীকার করেছে।
সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন,আলোচনা ছাড়া শক্তি প্রয়োগ করে আন্দোলন দমন করা যাবে না।
চলমান আন্দোলনের আড়ালে নৈরাজ্য ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে চট্টগ্রাম বন্দরের ১৫ জন কর্মচারীকে শাস্তিমূলক বদলি করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে তাঁদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদের হিসাব তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হাসিম স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২২-এর ৫০ ধারা অনুযায়ী জনস্বার্থে তাঁদের মোংলা ও পায়রা বন্দরে সংযুক্ত করা হয়। পরে ৫ ফেব্রুয়ারি বদলির আদেশ স্থগিত হলেও আন্দোলন অব্যাহত থাকায় রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
বদলিপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন আন্দোলনের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবিরসহ বিভিন্ন পদে কর্মরত পাঁচজন। অফিস আদেশে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত কর্মচারীরা আন্দোলনের নামে বন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন। এ অভিযোগের তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে আইন প্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা সংস্থাকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি দুদককে তাঁদের সম্পদের হিসাব তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে গ্রেপ্তার আতঙ্কে আন্দোলনের নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, পরিস্থিতি বিবেচনায় দূর থেকে আন্দোলন পরিচালনা করা হচ্ছে।
রোববার সকাল থেকে আন্দোলনের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের তিনটি টার্মিনাল ও বহির্নোঙরে কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। জেটিতে থাকা ১২টি জাহাজ ও বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ ৮০টির বেশি জাহাজে পণ্য খালাস বন্ধ রয়েছে। বন্দরের ইয়ার্ডে অন্তত ৪০ হাজার আমদানিযোগ্য কনটেইনার আটকে আছে।
এ অবস্থায় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা চুক্তি হচ্ছে না।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি এক বিবৃতিতে এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল লিজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী। এতে বন্দর কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়ে দেশের আমদানি-রপ্তানি ও অর্থনীতি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে বলে তারা দাবি করেছে।

No comments