হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগে বগুড়া-২ আসনের প্রার্থী মীর শাহে আলমের প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন
চ্যানেল টেন ডেস্কঃ
হলফনামায় তথ্য গোপন এবং সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত লাভজনক পদে বহাল থেকেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের অভিযোগে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) সংসদীয় আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মীর শাহে আলমের প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন করা হয়েছে।
সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বগুড়া জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বগুড়া শহর জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আলমগীর হোসাইন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২ অনুযায়ী কোনো প্রার্থী হলফনামায় তথ্য গোপন বা মিথ্যা ঘোষণা প্রদান করলে তার মনোনয়নপত্র বাতিলযোগ্য।
অভিযোগ অনুযায়ী, মীর শাহে আলম বর্তমানে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)-এর পরিচালক পদে বহাল রয়েছেন। অথচ মনোনয়নপত্রে এসব তথ্য গোপন করে তিনি মিথ্যা ঘোষণা প্রদান করেছেন
আবেদনকারী দাবি করেন, বিসিকের পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ না করেই মীর শাহে আলম নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন, যা নির্বাচন আইন ও আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিসিক চেয়ারম্যান এবং বিসিকের পরিচালক (প্রশাসন) মতামত প্রদানকালে জানান—মীর শাহে আলমের পদত্যাগ সংক্রান্ত কোনো ডকুমেন্ট তাদের কাছে নেই এবং তারা এ বিষয়ে অবগত নন।
অভিযোগের সমর্থনে প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, আগামী ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য বিসিক পরিচালনা পর্ষদের ৮৩৪তম সভার নোটিশের ০৫ নম্বর ক্রমিকে মীর শাহে আলমকে “সরকার কর্তৃক মনোনীত শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন পর্ষদ সদস্য” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়, তিনি এখনো সরকারি দায়িত্বে বহাল রয়েছেন।
এছাড়াও দাখিলকৃত হলফনামায় মীর শাহে আলম উপজেলার অন্তত ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাজার ও মসজিদ কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং বিসিক ও বিআরটিসির পরিচালক পদে থাকার তথ্য গোপন করেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়। এসব পদ থেকে পদত্যাগের কোনো গ্রহণযোগ্য দলিলও তিনি জমা দেননি।
বিআরটিসির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও নিশ্চিত করেছে যে, তিনি এখনো পরিচালক পদে বহাল রয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইলে মীর শাহে আলমের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনভাবেই সারা দেননি।
এ বিষয়ে বগুড়া জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌহিদুর রহমান বলেন, “মীর শাহে আলম যে হলফনামা দাখিল করেছেন, সেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত লাভজনক পদ থেকে পদত্যাগের কোনো কাগজ সংযুক্ত নেই। বিষয়টি যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।” অভিযোগ দাখিল হয়েছে যাচাই বাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ নিয়েও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী নামের আদ্যাক্ষর অনুসারে তালিকা প্রকাশের কথা থাকলেও বগুড়া-২ আসনে মীর শাহে আলমের নাম একাধিকবার ও ভিন্ন অবস্থানে দেখানো হয়েছে। ফলে যেখানে সাতজন প্রার্থী থাকার কথা, সেখানে ওয়েবসাইটে আটজন প্রার্থী প্রদর্শিত হচ্ছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল। অভিযোগের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে এলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।
No comments