বগুড়ায় ট্রাফিক পুলিশকে লাঞ্চিত: এজাহার দায়ের হলেও মামলা নেয়নি ওসি
বগুড়া প্রতিনিধিঃ
ব্যরত ট্রাফিক পুলিশকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছনার ঘটনায় তোলপাড় বগুড়া। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলেও মামলাটি গ্রহণ না করার অভিযোগ উঠেছে বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। বিষয়টি ঘিরে ট্রাফিক বিভাগ ও সদর থানার মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতি।
ঘটনাটি ঘটে গত ১ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে। বগুড়া শহরের ব্যস্ততম ইয়াকুবিয়া মোড়ে তীব্র যানজটের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছিলেন ট্রাফিক পুলিশের এটিএসআই জয়নাল আবেদিন।
ঠিক সে সময় ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করেন জেলার শাহাজানপুর উপজেলা বিএনপির যুব বিষয়ক সহ-সম্পাদক নাজিউর রহমান।
কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য তাকে সচেতন করতে গেলে আচমকাই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ওই নেতা। প্রকাশ্যে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ভয়ভীতি ও হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পুরো ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন অসংখ্য পথচারী। তাদের একজন মোবাইল ফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করলে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। চাপের মুখে দ্রুত ব্যবস্থা নেয় শাহাজানপুর উপজেলা বিএনপি। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে অভিযুক্ত নাজিউর রহমানকে বহিষ্কার করা হয়। এতে সাময়িক স্বস্তি ফিরলেও প্রশ্ন থেকে যায়—আইনের শাসন কোথায়?
ট্রাফিক বিভাগের দাবি, ঘটনার পর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে বগুড়া সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়। কিন্তু বিস্ময়করভাবে সেই এজাহার এখনো মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়নি। ফলে ন্যায়বিচার নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন করে অনিশ্চয়তা।
এজাহার দায়েরকারী লাঞ্ছিত ট্রাফিক কর্মকর্তা এটিএসআই জয়নাল আবেদিন বলেন, “ঘটনার পরপরই উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী সদর থানায় এজাহার দায়ের করি। কিন্তু এখন পর্যন্ত মামলা রেকর্ড হয়নি। বিষয়টি কেনো আটকে আছে, তা আমার জানা নেই।”
ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মোঃ সালেক উদ্দিন বলেন, “আমরা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এজাহার দিয়েছি। মামলা রেকর্ড না হওয়া দুঃখজনক। অন্তত কারণটা স্পষ্ট করে জানানো যেত।”
অন্যদিকে, বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলামের বক্তব্যে রয়েছে চরম অসংগতি। প্রথমে তিনি দাবি করেন, বগুড়া শহরে এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,
“এই ধরনের কোনো এজাহার বা মামলা থানায় দায়ের হয়নি।”
ওসির এমন বক্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত নেতার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকায় মামলা গ্রহণে গড়িমসি করা হচ্ছে। যদিও এ অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ কিছু স্বীকার করেননি।
কটি ভাইরাল ভিডিও, একজন লাঞ্ছিত পুলিশ সদস্য এবং একটি অরেকর্ড হওয়া এজাহার—সব মিলিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, প্রভাবশালীদের জন্য কি আইন ভিন্ন? বিষয়টি দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সচেতন
No comments