ঘন কুয়াশা আর উত্তরের হাওয়ায় কাঁপছে বগুড়া, তাপমাত্রা নামল ১১.৬ ডিগ্রিতে
বগুড়া প্রতিনিধিঃ
বগুড়ায় শীতের দাপট আরও বেড়েছে। উত্তরের ঠান্ডা বাতাসের সঙ্গে ঘন কুয়াশা যোগ হয়ে জেলায় অনুভূত হচ্ছে তীব্র শীত। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে বগুড়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি শীত মৌসুমে এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকালে বগুড়ায় চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগের দিন শুক্রবার তাপমাত্রা ছিল ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তার এক দিন আগে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে আগের রেকর্ড ভেঙে গেছে।
শনিবার সকাল বেলা সরেজমিনে দেখা যায় ঘন কুয়াশার কারণে সকালবেলা দৃশ্যমানতা কমে গেছে। ফলে স্বাভাবিক কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। শীত থেকে বাঁচতে অনেককে মোটা কাপড় গায়ে জড়িয়ে খোলা জায়গায় আগুন পোহাতে দেখা গেছে। সূর্যের দেখা না পাওয়া পর্যন্ত অনেকেই ঘর ছাড়তে চাইছেন না।
রিকশাচালক তানভীর আলম বলেন, শীত যতই হোক, পেটের দায়ে বের হতেই হয়। কাজ না করলে পরিবার নিয়ে বিপদে পড়তে হয়।
অন্যদিকে গাবতলী উপজেলার ইজিবাইক চালক সৈকত ইসলাম জানান, ভোরে কুয়াশা এত ঘন থাকে যে সামনে ঠিকমতো দেখা যায় না। হেডলাইট জ্বালিয়ে খুব সাবধানে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।
বগুড়া আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া জানান, গত কয়েক দিন ধরে জেলার ওপর দিয়ে শীতের প্রভাব স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। শনিবার সকাল থেকেই ঘন কুয়াশার সঙ্গে হিমেল বাতাস বইছে। সকাল ৯টায় রেকর্ড করা ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাই এখন পর্যন্ত এ মৌসুমের সর্বনিম্ন। আগামী কয়েক দিন শীতের এই তীব্রতা অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।
তবে শীতের কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন শিশু, বৃদ্ধ ও নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। জীবিকার তাগিদে সকাল থেকেই কাজে বের হতে হলেও কুয়াশা ও শীতের কারণে মানুষের চলাচল কমে যাওয়ায় কাজের সুযোগও কমে গেছে। এতে আয় হ্রাস পাচ্ছে দিনমজুর, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, কৃষিশ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের।
এদিকে শীতের তীব্রতা বাড়তে থাকায় প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র ও সহায়তার দাবি জানিয়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষজন।.
No comments