শিরোনাম

তারেক রহমানের আসনে প্রার্থী হতে চাই না : হিরো আলম

 বগুড়া প্রতিনিধিঃ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বগুড়া-৬ আসন থেকে সরে গেলেন আলোচিত আশরাফুল হোসেন হিরো আলম। বগুড়ার মানুষ হিসেবে সবাইকে এই সিদ্ধান্তে আসা উচিত বলে মনে করেন তিনি। 

তবে আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন চানাচুর বিক্রেতা থেকে সিনেমার নায়ক বনে যাওয়া এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর। জানিয়েছেন, বগুড়া-৪ (নন্দীগ্রাম-কাহালু) আসনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসনে বিএনপির প্রার্থী মোশারফ হোসেন ও জামায়াতের প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। 

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বিকেলে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে এক পোস্টে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন হিরো আলম। একতারা হাতে নেওয়া ছবির সঙ্গে তিনি লিখেছেন, আমি এবারও বগুড়া-৪ আসনে ইনশাআল্লাহ।  

ফেসবুক পোস্টে হিরো আলম বলেন, জননেতা তারেক রহমান আমাদের বগুড়ার মানুষের ভরসার জায়গা। তাঁর প্রতি সম্মানে বগুড়া-৬ সদর আসনে প্রার্থী হতে চাই না। বগুড়ার মানুষ হিসেবে সবাইকে এই সিদ্ধান্তে আসা উচিত মনে করি। 

উল্লেখ করেছেন, বগুড়া-৪ কাহালু-নন্দীগ্রাম আসন এবং বগুড়া-৬ সদর আসনে ইতিপূর্বে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। ক্ষমতাচ্যুতরা প্রকাশ্যে সীল মেরেছিল, আমি প্রার্থী হওয়ার কারণেই ভোট চুরির ঘটনা বিশ্ব দেখেছে। বগুড়া-৪ আসনের ভোটাররা আজও জানেন আমি নির্বাচিত। কারণ, দলমত নির্বিশেষে সবাই আমাকে সংসদে পাঠানোর বিষয়ে একজোট ছিল। সুযোগ পেলে সংসদে ঝড় তুলে দিলাম। কিন্তু তাদের ড্যামি ভোট আর আমার নিয়তি। ষড়যন্ত্র কারচুপি করে আমাকে পরাজিত দেখিয়েছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীনরা। ভোটের ফলাফল কেড়ে নিয়েছিল। আমার ওপর কয়েকদফা হামলা হয়েছিল, পাতানো নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছিলাম, গোটা বিশ্ব সাক্ষী। 

হিরো আলম বলেন, ভোটারসহ সর্বস্তরের জনসাধারণের দোয়া ও সমর্থন চাই। জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছে। বগুড়া-৪ আসনে এবারও প্রার্থী হতে চাই। তবে বগুড়া-৬ সদর আসনে একেবারেই না। দয়া করে কেউ গুজব ছড়াবেন না। 

উল্লেখ্য, পতিত আওয়ামী লীগ ঘরনার সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন হিরো আলম। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হেরে যান। ২০২৩ সালে বগুড়া-৪ আসনের উপনির্বাচনে একতারা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগ জোটের প্রার্থীর (মশাল) সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মাত্র ৮৩৪ ভোটে তাকে পরাজিত দেখানো হয়। একইদিন বগুড়া-৬ সদর আসনের ফলও প্রত্যাখ্যান করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলম। বলেছিলেন, সবাই বলছে আমি পাস, কিন্তু এত ভোট গেল কই। এই ফলাফল আমি মানি না। তিনি ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন। তখন হামলার শিকার হয়ে বলেছিলেন, এই সরকারের (আওয়ামী লীগ) অধীনে আর কোনো নির্বাচন করব না।

No comments