শিরোনাম

জীবিত মাকে ‘মৃত’ বানিয়ে বসতভিটা বিক্রি করল ছেলে

চ্যানেল টেন ডেস্কঃ

ময়মনসিংহের নান্দাইলে জুয়ার টাকা জোগাড় করতে জীবিত মাকে মৃত দেখিয়ে পৈতৃক বসতভিটাসহ জমি বিক্রি করে দিয়েছে এক জুয়াড়ি ছেলে। জালিয়াতি ও প্রতারণার এ ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার শেরপুর ইউনিয়নের রাজাবাড়িয়া গ্রামে। 

জানা গেছে, ওই গ্রামের মৃত জমসেদ আলীর ছেলে আব্দুল জলিল মারাত্মকভাবে জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েন। জুয়ার দেনা মেটাতে নজর পড়ে মা রহিমা খাতুনের পৈতৃক জমির ওপর। কিন্তু জীবিত মা জমি বিক্রি করতে রাজি হবেন না বুঝে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি মাকে মৃত সাজিয়ে ভিটেমাটিসহ ২১ শতক জমি প্রতিবেশী মজিবুর রহমানের কাছে বিক্রি করে দেন জলিল। সম্প্রতি ক্রেতা মজিবুর লোকজন নিয়ে বাড়ি, পুকুর ও পানের বরজ দখলে নিতে গেলে পুরো জালিয়াতি ফাঁস হয়।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পরিবার নান্দাইল সাব রেজিস্ট্রি অফিস থেকে ১১৫৪ ও ১১৫৫নং দলিলের সার্টিফাইড কপি তুলে জালিয়াতির সত্যতা পায়। দলিলে একই গ্রামের হোসেন মিয়া নামের এক ব্যক্তি সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন এবং দলিলটি সম্পাদন করেন ঝন্টু সরকার নামের এক দলিল লেখক।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যাকে মৃত দেখিয়ে জমি বিক্রি করা হয়েছে, সেই বৃদ্ধা মা রহিমা খাতুন বাড়ির সামনেই বসে আছেন। 

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি অহনও মরছি না, জলিল কেরে আমারে মরা বানাইয়া জমি বেচছে? আমি এইডার কঠিন বিচার চাই।’ 

জলিলের ছোট ভাই অলি মিয়া ও স্ত্রী নাছিমা বেগম জানান, জুয়াড়ি চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে একের পর এক জমি বিক্রি করেছেন জলিল। ছোট ভাই প্রশ্ন তোলেন, ‘মা জীবিত থাকতেও ভুয়া মৃত্যু সনদ কে দিল? আর সাব-রেজিস্ট্রারই বা কীভাবে তা যাচাই না করে দলিল রেজিস্ট্রি করলেন?’

এদিকে দলিল লেখক ঝন্টু সরকার দাবি করেন, তাকে দেওয়া মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশানপত্র দেখেই তিনি দলিল করেছেন এবং তা যাচাই করার দায়িত্ব তার নয়। 

অন্যদিকে, জীবিত রহিমা খাতুনকে মৃত দেখিয়ে ভুয়া মৃত্যু সনদ দেওয়ার কথা স্বীকার করে স্থানীয় ইউপি সদস্য হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘মৃত্যুর সনদ ও ওয়ারিশানপত্রটি আমিই দিয়েছিলাম। তবে এভাবে দেওয়া ভুল হয়েছে, বিষয়টি আমি দেখছি।’

No comments