কাইকারটেক ব্রিজে দিনের আলোয় স্লাব ভেঙে রড চুরি
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ ও বন্দর উপজেলার সংযোগস্থলে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত কাইকারটেক ব্রিজের ওয়াকওয়ের স্লাব ভেঙে লোহার রড ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের আলোতেই একদল দুষ্কৃতকারী ও মাদকাসক্ত চক্র ইট-হাতুড়ি দিয়ে স্লাব ভেঙে এসব সামগ্রী খুলে নিয়ে যাচ্ছে। এতে ব্রিজের ওয়াকওয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় পথচারীদের মধ্যে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, চুরি ঠেকাতে বাধা দিতে গেলেও অনেক সময় উল্টো হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুতে প্রকাশ্যে সরকারি সম্পদ নষ্ট ও চুরির ঘটনায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে। দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে ব্রিজটি নিরাপদ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
কাইকারটেক ব্রিজটি সোনারগাঁ ও বন্দর উপজেলার মানুষের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। পাশাপাশি নদীঘেঁষা হওয়ায় এটি স্থানীয়দের কাছে অন্যতম বিনোদন ও দর্শনীয় স্থানও। প্রতিদিন বিকেলে দূর-দূরান্ত থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকে এখানে ঘুরতে আসেন।
ব্রিজের পাশেই রয়েছে শতবর্ষী কাইকারটেক হাট। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতিতে হাটটি প্রতিদিনই জমজমাট থাকে। ফলে ব্রিজের ওপর দিয়ে নিয়মিত বিপুলসংখ্যক মানুষ চলাচল করেন। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ওয়াকওয়ের স্লাব খুলে নেওয়ায় যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা আমান-উল্লাহ বলেন, প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন। অথচ মাদকাসক্তরা ইট-হাতুড়ি দিয়ে ওয়াকওয়ের স্লাব ভেঙে রড বের করে নিয়ে যাচ্ছে। পরে সেগুলো ভাঙাড়ির দোকানে বিক্রি করছে। বাধা দিতে গেলে উল্টো হুমকি দেওয়া হয়।
আরেক বাসিন্দা রিয়াজুল করিম বলেন, কাইকারটেক ব্রিজ বন্দর ও সোনারগাঁ অঞ্চলের মানুষের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। পাশাপাশি এটি মানুষের বিনোদনেরও জায়গা। নেশার টাকা জোগাড় করতে পুরো ব্রিজকে এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। স্লাব ভেঙে যে গর্ত তৈরি হয়েছে, সেখানে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সরকারি সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগের বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, ‘বিষয়টি আগে আমার জানা ছিল না। দ্রুত সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে ব্রিজটি পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে। সরকারি সম্পদ বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক বলেন, এ বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান বিভিন্ন সময় চালানো হচ্ছে। ব্রিজের যন্ত্রাংশ চুরির সঙ্গে কারা জড়িত, তা শনাক্ত করে তাদের আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

No comments