শিরোনাম

জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ দেখে স্ত্রীকে খুন

চ্যানেল টেন ডেস্কঃ

ভারতের দিল্লিতে স্ত্রীকে হত্যার পর প্রমাণ নষ্ট করে তদন্ত ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন ৬২ বছর বয়সী এক সফটওয়্যার পরামর্শক। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার পর অস্ত্র গোপন ও পালানোর পরিকল্পনায় তিনি ‘দ্য স্টেয়ারকেস’ ওয়েব সিরিজ থেকে ধারণা নিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জুলাই পূর্ব দিল্লির একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় অভিযুক্ত কমল সিং ও তার স্ত্রী কোমল সিং বাড়িতে একা ছিলেন। তাদের ছেলে লাইব্রেরিতে, মেয়ে অফিসে এবং গৃহকর্মী কাজ শেষে চলে গিয়েছিলেন। 

পুলিশ জানায়, দুপুরের দিকে বারান্দায় কাপড় শুকানোর সময় পেছন থেকে তলোয়ার দিয়ে কোমলের মাথায় আঘাত করেন কমল। এরপর তিনি রান্নাঘরে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে টেনে এনে কাঁচি দিয়ে একাধিকবার আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ।

হত্যার পর কমল রক্তমাখা পোশাক ও ব্যবহৃত তলোয়ার একটি ব্যাগে ভরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। পরে তিনি ব্যাগটি ফেলে দেন এবং ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন করেন। পুলিশ জানিয়েছে, পালানোর সময় তার কাছে প্রায় ১২ লাখ ৭৫ হাজার রুপি ছিল।

এদিকে, রাতে বাড়ি ফিরে ছেলে গৌরব সিং মাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। সেখান থেকে কাঁচি উদ্ধার করা হলেও হত্যায় ব্যবহৃত তলোয়ারটি প্রথমে পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানায়, কমল নিখোঁজ থাকায় সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিগত নজরদারি ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে তার অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। প্রথমে তিনি মোবাইল ফোন চালু রেখে গোরখপুরের দিকে যান, যাতে তদন্তকারীরা ধারণা করেন তিনি নেপালে পালিয়ে যেতে পারেন। পরে মোবাইল বন্ধ করে দিক পরিবর্তন করেন। শেষ পর্যন্ত দিল্লি পুলিশ তাকে মথুরা রেলস্টেশনের কাছে গ্রেপ্তার করে।

জিজ্ঞাসাবাদে কমল হত্যার পরিকল্পনা ও পালানোর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তাদের দাবি, প্রমাণ দুর্বল করার উদ্দেশ্যে হত্যার অস্ত্র সরিয়ে ফেলার কৌশল তিনি ওয়েব সিরিজ দেখে শিখেছিলেন।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, গত এক বছর ধরে কমল ও কোমলের দাম্পত্য সম্পর্কে বিরোধ চলছিল। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ এবং মুম্বাই সফরের সময় কমলের অন্য এক নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা—এসব কারণে তাদের সম্পর্কের অবনতি হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের ধারণা, সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধই এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্যতম কারণ হতে পারে।

সূত্র: এনডিটিভি

No comments