শিরোনাম

যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ, গৃহবধূর মৃত্যু : স্বামী-শ্বশুর গ্রেফতার


মোঃ আব্দুর রহিম রিফাত, বগুড়া প্রতিনিধিঃ

বগুড়ায় যৌতুকের জন্য গৃহবধূ মিম খাতুন (২৩)-কে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার এজাহারনামীয় ১ নম্বর ও ২ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১২-এর সিপিএসসি বগুড়া।

গ্রেপ্তাররা হলেন—মামলার ১ নম্বর আসামি মো. সোহেল রানা (৩২) এবং ২ নম্বর আসামি মো. জামাল উদ্দিন (৫৮)। তারা বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার বাওইটোনা এলাকার বাসিন্দা।

র‌্যাব-১২ সূত্রে জানা যায়, মিম খাতুন গত ১০ মার্চ ২০২৩ সালে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক সোহেল রানার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের সময় মেয়ের পরিবার থেকে নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইনসহ ঘরের আসবাবপত্র দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের কিছুদিন পর সোহেল রানা মোটা অঙ্কের যৌতুক দাবি করেন। দাবিকৃত যৌতুক দিতে রাজি না হওয়ায় মিমকে একাধিকবার মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার পর মিম আবার স্বামীর বাড়িতে ফিরে যান।

এরপর গত ২ আগস্ট রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সোহেল রানা মিমের মা মোছা. সোলেনা বেগমকে ফোন করে জানান, তার মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলেন। কিছুক্ষণ পর আবার ফোন করে মিমের মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মিমকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

মিমের মৃত্যুকে ঘিরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হলে তার বাবা গাবতলী থানায় মামলা করেন। এ ঘটনায় গাবতলী থানায় গত ৭ আগস্ট মামলা নম্বর-১৪ এবং জিআর নম্বর-১৭৩ দায়ের করা হয়। মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(ক)/৩০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

র‌্যাব-১২-এর সিপিএসসি বগুড়া গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, মামলার এজাহারনামীয় দুই আসামি বগুড়ার শেরপুর থানার গাড়ীদহ এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন। এর ভিত্তিতে সোমবার (৩১ আগস্ট) ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে র‌্যাবের একটি অভিযানিক দল গাড়ীদহ এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোহেল রানা ও জামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে।

পরে গ্রেপ্তার দুজনকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গাবতলী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাব-১২ সিপিএসসি বগুড়ার কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লীডার ফিরোজ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

র‌্যাব জানিয়েছে, অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে তা আরও জোরদার করা হবে।

No comments