শিরোনাম

গণধর্ষণের অভিযোগের পর সালিশ, ১০ লাখ টাকায় দফারফার চেষ্টা

চ্যানেল টেন ডেস্কঃ

ময়মনসিংহের নান্দাইলে গণধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ১০ লাখ টাকায় বিষয়টি দফারফার চেষ্টা এবং সালিশে ৫ লাখ টাকা দেওয়ার দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র। তবে তরুণী কোথায় আছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ জুলাই রাতে বীর বেতাগৈর ইউনিয়নের একটি বাড়িতে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরদিন পরিবারের পক্ষ থেকে নান্দাইল থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীর দাবি, থানায় যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার সময় তরুণীকে জোর করে তুলে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে রাখা হয়। পরে তাঁর সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। এরপর স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন বলে অভিযোগ আছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি দাবি করেন, সালিশের মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে ৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, পুরো বিষয়টি ১০ লাখ টাকায় দফারফার চেষ্টা করা হয় এবং বাকি টাকা সালিশকারীদের কাছে রয়েছে।

ভুক্তভোগীর এক স্বজনও সালিশের কথা স্বীকার করেন। তাঁর দাবি, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাঁদের পক্ষ থেকে সাংবাদিক, থানা ও কাজীর মাধ্যমে বিষয়টি মিটমাট করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই সালিশে ফজলু, রাজ্জাক, কাসেম, অলি মেম্বার, মোসলেমসহ আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। ফজলু সালিশে উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, তিনি সেখানে দর্শক হিসেবে ছিলেন এবং কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুক্ত ছিলেন না। অলি মেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

বীর বেতাগৈর ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. আনোয়ার হোসেন জীবন বলেন, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বিষয়টি নিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তবে তাঁর মাধ্যমে কোনো ফয়সালা হয়নি। পরে অন্যত্র সালিশ হওয়ার কথা তিনি জানতে পারেন।

নান্দাইল মডেল থানার ওসি মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ তদন্ত করেছে। তদন্তে ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত সম্পর্কের কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। পরে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা যায়।

No comments