শিরোনাম

ধুনটে সাংবাদিককে মামলায় ফাঁসানো ও মুচলেকা লিখে নেওয়ার চেষ্টা প্রধান শিক্ষকের

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ

বগুড়ার ধুনটে বিশ্বহরিগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এমরুল কায়েসের বিরুদ্ধে দুই সাংবাদিককে মামলায় ফাঁসানো ও মুচলেকা লিখে নেওয়ার হুঁমকি এবং অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। প্রধান শিক্ষক হাজিরা খাতায় সই করে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত, শ্রেণীকক্ষে বড় পর্দায় সিনেমা প্রদর্শন, সাউন্ড বক্সে উচ্চ শব্দে গান বাজানো ও বিদ্যালয় সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগের তথ্য সংগ্রহকালে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে ক্ষুদ্র মেরামত প্রকল্পের আওতায় উপজেলার বিশ্বহরিগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে বুধবার (১ জুলাই) দুপুর প্রায় ৩ টায় মানাস মিডিয়ার সাংবাদিক গোলাম রব্বানী ও সুমন হোসেন ওই বিদ্যালয়ে পৌঁছেন। ওই সময় প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত ছিলেন। অথচ হাজিরা খাতায় প্রধান শিক্ষকের সই করা আছে। 

বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে প্রবেশের পর সাংবাদিকরা শহীদ মিনারে ছাগল বিচরণ, শ্রেণীকক্ষে বড় পর্দায় ভারতীয় সিনেমা প্রদর্শন, সাউন্ড বক্সে উচ্চ শব্দে গান বাজানো সহ বিভিন্ন অসংগতির ভিডিও দৃশ্য ধারণ করেন। সংবাদ পেয়ে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে সাংবাদিকদের বিদ্যালয়ে আসার কারণ চানতে চান। তখন বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামত প্রকল্পের কাজের তথ্য জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়ে তেড়ে আসেন। তথ্য না দিয়ে বিনা অনুমতিতে বিদ্যালয়ে প্রবেশের অভিযোগ তুলে সাংবাদিকদের মামলা দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি এবং সাদা কাগজ বের করে মুচলেকা লিখে নেওয়ার চেষ্টা করেন প্রধান শিক্ষক। এ সময় দুই সাংবাদিক কৌশলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গন ত্যাগ করেন।    

এ বিষয়ে সাংবাদিক সুমন হোসেন বলেন, জনস্বার্থে তথ্য সংগ্রহ ও সংবাদ প্রকাশ করা সাংবাদিকদের সাংবিধানিক ও পেশাগত দায়িত্ব। দায়িত্ব পালনকালে বাধা দেওয়া এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ স্বাধীন সাংবাদিকতার হস্তক্ষেপ। তিনি প্রধান শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি করেছেন।

এ বিষয়ে ধুনট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাইয়্যেদা জাহান বানু বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়টি মুঠোফোনে তাকে জানানো হয়েছে।

No comments