শিরোনাম

যানজট নিরসনে বগুড়া শহরে থাকছে না রেললাইন ও স্টেশন

মোঃ আব্দুর রহিম রিফাত, বগুড়া প্রতিনিধিঃ

স্থানান্তর করা হচ্ছে বগুড়া জেলা শহরের রেললাইন ও স্টেশন। শহরকে রেল ক্রসিংকেন্দ্রিক যানজট থেকে মুক্ত রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, নির্মাণাধীন বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথের রাণীরহাট জংশনই হবে বগুড়া স্টেশন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় ও আধুনিক নগর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শহরকে বাইপাস করে নতুন এই রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে ওই ডিও পত্র পাঠান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তার এই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে রেলপথ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে।

প্রতিমন্ত্রী বিয়ষটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে বলেছেন, রাণীরহাট জংশন থেকে সরাসরি গাবতলী পর্যন্ত নতুন রেল সংযোগ স্থাপনের প্রস্তাব করা হয়েছে। একইসঙ্গে শহরের ভেতর দিয়ে যাওয়া রেলপথটি অপসারণ করে সেখানে চার লেনের সড়ক এবং বর্তমান রেলস্টেশনটিকে দূরপাল্লার বাসস্ট্যান্ডে রূপান্তরের কথা ভাবছে সরকার।

ডিও পত্রে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, কাহালু থেকে বগুড়া শহর হয়ে গাবতলী পর্যন্ত বিদ্যমান রেলপথটি শহরের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ ও ব্যস্ত এলাকার মধ্য দিয়ে গিয়েছে। এই রুটে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ রেলক্রসিং থাকায় প্রতিদিন ট্রেন চলাচলের সময় প্রধান সড়কগুলোতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এর ফলে শিক্ষার্থী, রোগী, চাকরিজীবীসহ সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বর্তমান বাস্তবতায় এই রেলপথটি বগুড়া শহরের অন্যতম বড় অবকাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা।

যানজটের স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রতিমন্ত্রী তার প্রস্তাবে রাণীরহাট জংশনকে কেন্দ্র করে রাণীরহাট-গাবতলী নতুন রেল সংযোগ স্থাপনের কথা বলেন। একই সঙ্গে কাহালু-রাণীরহাট-গাবতলী রুটে আধুনিক রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, শহরের ভেতর থেকে রেলপথটি অপসারিত হলে গাবতলী থেকে বগুড়া হয়ে কাহালু পর্যন্ত এলাকাটিকে চার লেনের রাস্তায় রূপান্তর করা হবে। এ ছাড়া শহরের বিদ্যমান রেল স্টেশনটিকে সংস্কার করে দূরপাল্লার বাসগুলোর জন্য একটি আধুনিক বাসস্ট্যান্ড করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বগুড়া শহর রেল ক্রসিংয়ের যানজট থেকে চিরতরে মুক্তি পাবে এবং উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ আরও নিরাপদ হবে। এটি হবে শহরের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত পরিবর্তন, যা কয়েক দশকের পুরোনো সমস্যার টেকসই সমাধান এনে দেবে।

গাবতলী এলাকার বাসিন্দা আজমত হামিক গণমাধ্যমকে বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত ভালো। এতে করে শহীদ জিয়ার জন্মস্থান গাবতলী বদলে যাবে।

রানীরহাটের অটোচালক রশিদুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, বগুড়া স্টেশন রাণীরহাটে হলে এই এলাকার চেহারা বদলে যাবে। বদলে যাবে পুরো বগুড়ার চিত্র। এটি সরকারের সঠিক পদক্ষেপ।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গণমাধ্যমকে বলেন, বগুড়া শহরের যানজট কমানোর জন্য আমরা বুয়েটের প্রকৌশল দল দিয়ে নানা বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করেছি। যানজট কমানোর জন্য ফ্লাইওভার নির্মাণ করলে তা আরও বাড়বে। এছাড়া এটি নির্মাণে অনেক বাড়িঘর ভাঙা পড়ছে। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা অনুয়ায়ী শহরের রেললাইন ও স্টেশন শহরের বাইরে রাণীরহাটে নিয়ে যাওয়া হলে সবচেয়ে ভালো হয়। এজন্য এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

No comments