প্রকৃত খুনি চিহ্নিত হলেও বাবাকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে’—সংবাদ সম্মেলনে সাদিয়া'
বগুড়া প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় মানিক চৌধুরী হত্যা মামলায় প্রকৃত খুনি চিহ্নিত হওয়ার পরও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তার বাবা উপজেলার গুনাহার ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি মো. আবু কালামকে এক নম্বর আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাদিয়া আক্তার লামিয়া। বৃহস্পতিবার (২ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ তুলে ধরে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন।
লিখিত বক্তব্যে সাদিয়া আক্তার লামিয়া বলেন, গত ১৮ মে দুপচাঁচিয়া উপজেলার ঝাঁঝিরা গ্রামের বাসিন্দা মানিক চৌধুরী ছাগল ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘটিত বিরোধের জেরে নিহত হন। ঘটনার আগে গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা ফিরোজ হোসেন ওরফে কাকরুলের সঙ্গে মানিক চৌধুরীর বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মীমাংসা হলেও রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে ঝাঁঝিরা গ্রামের বাঙালি বাজারে ফের তাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
তার দাবি, ওই সময় ফিরোজ হোসেন ওরফে কাক্কুল লাঠি দিয়ে মানিক চৌধুরীর মাথায় আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দুপচাঁচিয়া সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয় এবং প্রত্যক্ষদর্শীসহ নিহতের স্বজনরাও একাধিকবার অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সাদিয়া অভিযোগ করেন, ঘটনার সঙ্গে তাদের পরিবারের কোনো সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বাবা মো. আবু কালামকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে। তিনি বলেন, “খুনের সময় আমার বাবা তালুচ বাজারে অবস্থান করছিলেন। তার অবস্থানের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যপ্রমাণ রয়েছে। এরপরও তাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলায় জড়ানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় গত ১৭ বছরে ৫৪টি মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। এছাড়া তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও গুমের মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সাদিয়া আক্তার লামিয়া বগুড়া জেলা বিএনপির ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ, প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পরও আমার বাবা মিথ্যা মামলার মাধ্যমে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের বিচার এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।”

No comments