শিরোনাম

১২ বছরের অটিস্টিক শিশু সেজে প্রতারণা, ৩৭ বছরের নারী গ্রেপ্তার

চ্যানেল টেন ডেস্কঃ

ব্রাজিলে হলিউডের বিখ্যাত হরর চলচ্চিত্র ‘অরফ্যান’-এর কাহিনির মতোই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ১২ বছর বয়সী এক অটিস্টিক শিশুকে দত্তক নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল একটি পরিবার। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তারা জানতে পারেন, যাকে তারা গত ১৪ মাস ধরে সন্তান হিসেবে গ্রহণের জন্য লালন-পালন করছিলেন, তিনি কোনো শিশু নন—বরং ৩৭ বছর বয়সী এক নারী।

অভিযুক্ত নারীর নাম আমান্দা মারিয়া সুজা ডি অলিভেইরা (৩৭)। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি গত ১৪ মাস ধরে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে নিজেকে শিশু হিসেবে উপস্থাপন করে ওই পরিবারের আস্থা অর্জন করেছিলেন। কথিত ১২তম জন্মদিনের মাত্র কয়েক দিন আগে তার পরিচয় ফাঁস হয়।

ঘটনাটি ঘটে ব্রাজিলের সান্তা কাতারিনা অঙ্গরাজ্যে। পরে পুলিশ আমান্দাকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ এর মিল পাওয়া যায় ২০০৯ সালের চলচ্চিত্র ‘অরফ্যান’-এর গল্পের সঙ্গে, যেখানে এক প্রাপ্তবয়স্ক নারী শিশু সেজে একটি পরিবারে প্রবেশ করে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমান্দা মূলত বিভিন্ন গির্জাভিত্তিক গোষ্ঠী ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে লক্ষ্য করে নিজেকে শিশু হিসেবে পরিচয় দিতেন। তিনি শিশুদের মতো আচরণ, পোশাক ও ব্যবহার অনুসরণ করতেন এবং শিশুদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ব্যবহার করতেন।

তার বয়স নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি দাবি করতেন, শৈশবে গুরুতর মানসিক ট্রমার কারণে তার শরীরে অকাল বার্ধক্যের লক্ষণ দেখা দিয়েছে। এই ব্যাখ্যা অনেককেই বিভ্রান্ত করেছিল।

অভিযোগ রয়েছে, সহানুভূতি ও আশ্রয় পাওয়ার জন্য তিনি অতীত নির্যাতনের গল্পও তৈরি করেছিলেন। তদন্তে আরও জানা যায়, সেই নির্যাতনের চিহ্ন দেখানোর জন্য তিনি নিজেই নিজের শরীরে আঘাত করতেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

তার এই প্রতারণার বিষয়টি প্রথম সন্দেহ করেন দত্তক নিতে যাওয়া পরিবারের এক আত্মীয়। তিনি অনলাইনে অনুসন্ধান করে জানতে পারেন, যাকে তারা শিশু বলে বিশ্বাস করছিলেন, তিনি আসলে বিভিন্ন রাজ্যে ওয়ান্টেড তালিকাভুক্ত একজন প্রাপ্তবয়স্ক প্রতারক।

এরপর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে দ্রুত অভিযান চালিয়ে আমান্দাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তিনি তার অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে জানানো হয়েছে।

বর্তমানে আমান্দা মারিয়া সুজা ডি অলিভেইরার বিরুদ্ধে জালিয়াতি, প্রতারণা এবং পরিচয় চুরির অভিযোগে মামলা চলছে। আদালতের নির্দেশে তার মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে, যাতে নির্ধারণ করা যায় ঘটনার সময় তিনি মানসিকভাবে সুস্থ ছিলেন কি না এবং আইনগতভাবে তাকে দায়ী করা যাবে কি না।

No comments