শিরোনাম

রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট নিয়ে যা জানা গেল

চ্যানেল টেন ডেস্কঃ

আলোচিত রামিসা হত্যা মামলায় তদন্ত শেষে আজ রোববার (২৪ মে) আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং হত্যার পর তা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করারও চেষ্টা করা হয়েছিল।

বহুল আলোচিত এই মামলার চার্জশিটে হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ, অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততা, ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি এবং তদন্তে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। চার্জশিট দাখিলের পর মামলাটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এদিন দুপুরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৪৭ পৃষ্ঠার চার্জশিট জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান। আদালত চার্জশিট গ্রহণ করে বিচারের জন্য মামলাটি ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেন।

বিষয়টি ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি প্রসিকিউশন) মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চার্জশিটে ঘটনার আগে ও পরের বিভিন্ন বিষয় বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে অভিযুক্তদের চলাফেরা, ভুক্তভোগীর সঙ্গে তাদের যোগাযোগ, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া আলামত, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং সাক্ষীদের বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও যাচাই-বাছাই করেই চার্জশিট প্রস্তুত করা হয়েছে।

ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং হত্যার পর তা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করারও চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তদন্তে জানা যায়।

এর আগে ২০ মে আলোচিত এ মামলায় আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন মূল আসামি সোহেল রানা। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এছাড়া ওইদিন সোহেলের স্ত্রী স্বপ্নাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দোষ স্বীকার করে সোহেল যে জবানবন্দি দিয়েছেন তা রেকর্ডের বিষয়ে আদালতে করা পুলিশের আবেদনে বলা হয়, হত্যার শিকার শিশু রামিসা রাজধানীর একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত সোমবার (১৮ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে বাসা থেকে বের হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। পরবর্তীকালে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য শিশুটিকে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তারা। পরে অনেক ডাকাডাকিতেও কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন শিশুটির স্বজন ও প্রতিবেশীরা। ওই সময় ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ পড়ে ছিল। এ ছাড়া আরেকটি কক্ষের ভেতরে একটি বালতির মধ্যে তার মাথাটি রাখা ছিল।

আবেদনে আরও বলা হয়, মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশু রামিসার মাথা শরীর থেকে আলাদা করা হয়। সেই সঙ্গে তার সংবেদনশীল অঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখা হয়। পরে খণ্ডিত মাথাটি বালতির মধ্যে রাখা হয়।

অন্য দিকে ঘটনার পর কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। ওইদিনই বাসা থেকে স্বপ্নাকে ও পরদিন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

No comments