শিরোনাম

দুই পা অচল, তবুও থেমে নেই জীবন: ৪০০ টাকার দিনমজুরিতে চলছে নয়নের সংসার

বগুড়া প্রতিনিধিঃ

দুই পা অচল। হাঁটাচলা করতে হয় কষ্ট করে। তবুও থেমে নেই জীবনযুদ্ধ। প্রতিদিন সকাল হলে কাজের সরঞ্জাম হাতে বেরিয়ে পড়েন মো. নয়ন রহমান। রাস্তার ধুলো মেখে, ঘাম ঝরিয়ে দিনমজুরের কাজ করে চলছেন তিনি। দিনে আয় মাত্র ৪০০ টাকা। সেই টাকাতেই চলছে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তার ছোট্ট সংসার।

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার ফুলদীঘী পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. নয়ন রহমান জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। তার বাবা হাবিবুর রহমান একজন ট্রাকচালক। অভাব-অনটনের সংসারে পঞ্চম শ্রেণির পর বন্ধ হয়ে যায় নয়নের লেখাপড়া। তবে থেমে যায়নি জীবন। গত পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন শ্রমের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বগুড়ার বিভিন্ন এলাকায় শারীরিকভাবে সক্ষম অনেক মানুষও ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে বেছে নিলেও নয়ন কখনও কারও কাছে হাত পাতেননি। বরং নিজের শ্রম আর ঘামের বিনিময়ে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন।

নয়ন রহমান বলেন, “প্রতিদিন কাজ করলে সংসার চলে, না করলে চলে না। কষ্ট হয়, তারপরও কারও কাছে হাত পাততে চাই না। নিজের পরিশ্রমে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাঁচতে চাই।”

দুই বছর আগে বিয়ে করেন নয়ন। বর্তমানে এক কন্যা সন্তানকে ঘিরেই তার স্বপ্ন। শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন সাহসের সঙ্গে।

নয়নের এক সহকর্মী বলেন, “ওর শারীরিক সমস্যা আছে, তারপরও যেভাবে কাজ করে তা সত্যিই অনুপ্রেরণার। অনেক সুস্থ মানুষ যেখানে কাজ করতে চায় না, সেখানে নয়ন প্রতিদিন পরিশ্রম করে সংসার চালাচ্ছে।”

স্থানীয় এক দোকান মালিক বলেন, “নয়ন খুব আত্মসম্মানবোধসম্পন্ন মানুষ। কখনও কারও কাছে সাহায্য চায় না। কাজ করে যা পায় তাই দিয়েই সংসার চালায়।”

সমাজের অনেকের কাছেই নয়ন এখন অনুপ্রেরণার নাম। কারণ প্রতিবন্ধকতা তাকে হার মানাতে পারেনি। জীবনের কঠিন বাস্তবতার মাঝেও তিনি দেখিয়ে দিচ্ছেন ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম থাকলে সংগ্রাম করেই সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকা যায়।

No comments