গণভবন তুমি কার
চ্যানেল টেন ডেস্কঃ
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আবারও গণভবন মালিকানার পরিবর্তন হয়েছে। শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের হাত থেকে তা চলে এসেছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হাতে। মূলত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার জন্যই সেটা করা হয়েছে। গণভবনের সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি সাফ কবলা দলিল সম্পাদিত হয়ে গেছে। দলিলে স্বাক্ষর করেছে গণভবনের জমিজমার মালিক এবং তত্ত্বাবধায়ক গণভবনের সমস্ত স্থাপনা সম্পত্তি আসবাবপত্র ও অন্যান্য বিষয় রক্ষণাবেক্ষণের আইনি ক্ষমতাপ্রাপ্ত জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ।
দৈনিক এদিনের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, গত বছরের ২২ জুলাই সাবকবলা দলিলটি হয়েছে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে। দলিল নম্বর ২০৫৫। সেখানে জমির পরিমাণ উল্লেখ করা হয় ১৭.৪৮ একর। দলিলটি যাচাই-বাছাই করে নিবন্ধন করেন রেজিস্টারিং অফিসার মো. মোহামেনুর রহমান। তিনি ঢাকা রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স তেজগাঁও অফিসের সাব রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। দাতা হিসেবে দলিল স্বাক্ষর করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব মো. মফিজুর রহমান।
গণভবন এতদিন ছিল শেখ মুজিবুর রহমান পরিবারের নামে বরাদ্দকৃত সম্পত্তি। মূলত ২০০১ খ্রিস্টাব্দের ২০ শে জুন জাতীয় সংসদে জাতির পিতার পরিবার সদস্যদের নিরাপত্তা আইন পাশ হয়। এই আইনেই ২০০১ খ্রিস্টাব্দের ২ জুলাই আওয়ামী লীগ সরকার আমলে গণভবনটি শেখ হাসিনার নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সেই আইনে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে আজীবন স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স দিয়ে নিরাপত্তা দেওয়া, পৃথক আবাসন বরাদ্দ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়। ডক্টর ইউনুস সরকার সে গণভবন থেকে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার পর সম্পত্তিটি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় চলে আসে।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের নামে দলিল রেজিষ্ট্রি হওয়ার আগে গণভবন বরাদ্দের দলিল ছিল শেখ হাসিনার নামে। সেটা বাতিল করে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের নামে নতুন দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়েছে কি না এমন একটি প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। নিবন্ধন আইনে একই সম্পত্তি দুজনের নামে রেজিষ্ট্রিকৃত দলিল থাকা অস্বাভাবিক এবং বেআইনি। এমন তথ্য সঠিকভাবে জানাতে পারেনি তেজগাঁও সাব রেজিষ্ট্রি অফিস কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলা রেজিষ্টার মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘সাফ কবলা কোনো দলিল বাতিল বা বাজেয়াপ্ত করতে হলে আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়ের করতে হয়। সেটা সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে প্রয়োজন। তবে সরকারি জমিজমা বা সম্পত্তির ক্ষেত্রে কিছু শর্তের বিনিময়ে দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়। শর্তগুলো লংঘিত হলে সরকার বা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর বরাদ্দ বাতিল করতে পারে। সেক্ষেত্রে রেজিস্ট্রিকৃত দলিল অকেজো হয়ে যায়। তবে বিষয়টি ভলিউমে সংশোধন ও নোট থাকতে পারে।’
একাধিক প্রবীণ আইনজীবী অভিমত দেন ভলিউম সংশোধন না হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের নামে মালিকানা বহাল থেকে গেছে। দুজনের নামেই নকল নেওয়ার সুযোগ থাকে।
এদিনের অনুসন্ধানে জানা যায়, শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে শেরেবাংলা নগর বা দ্বিতীয় রাজধানী খ্যাত জাতীয় সংসদ ভবনের পশ্চিম পাশে দেশের প্রধানমন্ত্রীর অফিস ও বাসভবন নির্মাণ শুরু করেন। ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে নির্মাণকাজ শেষ হলে সেখানে অফিস করতে থাকেন। তবে বাস করতেন ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাসভবনে। স্বাধীনতার পর দেশের রাষ্ট্রপতি হিসাবে শেখ মুজিব মিন্টো রোডস্থ প্রেসিডেন্ট ভবনে অফিস করতেন। যা তখন গণভবন নামে পরিচিত ছিল। মিন্টো রোডের গণভবন নামটি শেরেবাংলা নগরের প্রধানমন্ত্রীর অফিস ও বাসভবনে নিয়ে আসা হয়। অপরদিকে মিন্টো রোডের গণভবন পরবর্তীতে ‘সুগন্ধা ভবন’ নামকরণ করা হয়। যা বর্তমানে ফরেন সার্ভিস একাডেমী হিসেবে খ্যাত।
বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ এক অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করে বলেছিলেন, ‘স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য তেমন উপযুক্ত অবকাঠামো ছিল না। বঙ্গবন্ধুকে অনেক কষ্ট করে মিন্টো রোডে অফিস করতে হতো। কর্মচারী-কর্মকর্তাদের বসার জায়গা হতো না। দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকলে ঠিকমতো কাজও করা যেত না। তাই বঙ্গবন্ধু অনেক ভেবেচিন্তে জাতীয় সংসদ সংলগ্ন এলাকায় গণভবন নির্মাণের পরিকল্পনা করেন। কিন্তু দুঃখজনক ঘটনা হলো মাত্র অল্প সময় তিনি সেখানে অফিস করতে পেরেছিলেন।’
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিব সপরিবারে নিহত হলে দেশের সামরিক শাসন জারি হয়। একই সঙ্গে গণভবন সামরিক আদালতে পরিণত হয়। পরবর্তীতে গণভবনটিতে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রেসিডেন্ট এরশাদ ক্ষমতায় আসার পর ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে গণভবন সংস্কার করে ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে ‘করতোয়া’ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন করা হয়। ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয়বার সংস্কার করে গণভবনকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় করা হয়। ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে গণভবনকে নতুন করে সাজসজ্জা করে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের নামে ইজারা নেন। কিন্তু রাষ্ট্রীয় সম্পদ গণভবন নিজের নামে গণমাধ্যমে বিরূপ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করলে শেখ হাসিনা স্থানটি ছেড়ে দেন। ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা লতিফুর রহমান হাসিনার নামে ইজারা বাতিল করে দেন। বিএনপি দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এলে খালেদা জিয়া গণভবনের নাম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় রাখেন। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া কখনো সেখানে থাকেননি।
আওয়ামী লীগ দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে গণভবনটি পুনরায় সংস্কার করে। সংস্কার শেষ হলে ২০১০ খ্রিস্টাব্দের ৫ মার্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানে বসবাস শুরু করেন। এর আগে ‘জাতির পিতার পরিবার সদস্যদের নিরাপত্তা আইন ২০০৯’ সংসদে পাস এবং গণভবনে প্রায় সাড়ে ১৭ একর জমি শেখ হাসিনার নামে রেজিষ্ট্রিকৃত দলিলে হস্তান্তর করা হয়। ২০২৪ খ্রিস্টাব্দের ৫ আগস্ট পর্যন্ত তিনি গণভবনে বসবাস করেছেন।
২০২৩ খ্রিস্টাব্দের ১৯ ফেব্রুয়ারি বাসসের (বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা) এক সংবাদ সূত্রে জানা যায়, শেখ হাসিনা গণভবনের বরাদ্দ পাওয়ার পর সেখানে একটি খামারবাড়ি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ভবনের বিশাল আঙ্গিনায় বিভিন্ন রকম কৃষিপণ্যের চাষাবাদ, ফল ফলাদির গাছ, শাক সবজির চাষ ও হাস মুরগি পালন করা হতো। গণভবনে যে পুকুর রয়েছে তাতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হতো। এসব বিষয় নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের দৃশ্য দেশবাসী দেখেছে।
আওয়ামী লীগ শাসনে আসলে গণভবনের যেমন গুরুত্ব বেড়েছে, আবার ক্ষমতা শেষে ভবনের গুরুত্ব কমে গেছে। একটি রাজনৈতিক আবহাওয়া গণভবন ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। মূলত ‘নিরাপত্তা আইনের’ শর্ত পালন করার জন্যই শেখ হাসিনার নামে গণভবন এবং শেখ রেহানার নামে ধানমন্ডির ৬ নম্বর সড়কে এক বিঘা জমির একটি সরকারি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এর আগে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে পূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে বাড়ি বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ‘গণভবন কারো ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তি হবে না। মূলত জাতির পিতার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যই প্রতীকীমূল্যে বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
লতিফুর রহমান প্রধান উপদেষ্টা থাকাকালে শেখ হাসিনার নামে বরাদ্দকৃত গণভবনের মালিকানা বাতিল হয়। লতিফুর রহমান প্রধান উপদেষ্টা হয়ে আসার পরই বিএনপির পক্ষে মহাসচিব আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া আদালতে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। পিটিশনে বলা হয়, ‘জাতির পিতার পরিবার সদস্যদের নিরাপত্তা আইন বৈষম্যমূলক এবং অসংবিধানিক। এই আইনটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী। যা দেশের সকল নাগরিকের বিপরীতে কেবল দুজনের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে।’
২০০২ সালের অক্টোবরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করলে আইনটি বাতিলের পথ সহজ হয়ে যায়। ডিসেম্বর মাসে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সম্মতিতে জাতির পিতার পরিবার সদস্যদের নিরাপত্তা আইন বাতিল হয়ে যায়।
শেখ হাসিনা একসময় জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রিপরিষদ ১০১ টাকা প্রতিকীমূল্যে গণভবনটি তাকে রেজিষ্ট্রিকৃত দলিলের মালিকানা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল। তিনি সে প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। মূলত নিরাপত্তার কথা ভেবে তিনি গণভবনে বসবাস করতে চেয়েছেন। গণভবনকে কখনো অস্থায়ীভাবে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনও তিনি করতে চাননি। বিগত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, মওদুদ আহমেদ কিংবা শাহ আজিজুর রহমান কেউই গণভবনে বাসস্থান কিংবা কার্যালয়ে করেননি। তবে ২০১০ সালের দিকে শেখ হাসিনা এসব কথা থেকে সরে আসেন। তিনি গণভবনকে প্রধানমন্ত্রীর বাসস্থান ও কার্যালয় হিসেবে রেজিষ্ট্রিকৃত দলিল বরাদ্দ নেন।
বিশিষ্টজনদের অভিমত, গণভবন নিয়ে যত আলোচনা সমালোচনা কিংবা বিতর্কই হোক না কেন, এর সঙ্গে মিশে আছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি। তার ইচ্ছায় মাত্র এক বছরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ঐতিহাসিক ভবনটি গড়ে ওঠে দ্বিতীয় রাজধানী শেরেবাংলা নগরে। যে ভবনটির নকশা করেছিলেন পৃথিবীর সেরা স্থপতি লুই আই কান (১৯০১-১৯৭৪)। এই মার্কিন স্থপতির মৃত্যুর বছরেই গণভবনে অফিস করেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি গণভবনের নকশা করার পর তা বাস্তবায়ন করার জন্য অধিদপ্তরের স্থপতিরা কাজ করেছিলেন। যার নেতৃত্বে দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলিক খবির উদ্দিন বেগ ও জ্যেষ্ঠ স্থপতি আমির হোসেন।
প্রখ্যাত আমলা লেখক মাহাবুব তালুকদার, ‘বঙ্গভবনে পাঁচ বছর’ বইয়ে বঙ্গভবনের পাশাপাশি গণভবন নিয়ে স্মৃতিচারণা করেছেন। আমলা হলেও কবি ও লেখক হিসেবে বঙ্গবন্ধু তাকে চিনতেন এবং স্নেহ করতেন। বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া গণভবন নানা ঘটনা রটনার শিকার হয়ে অবশেষে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে হয়েছে। এই গণআন্দোলনে নিহতদের স্মৃতি রক্ষা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পৈচাশিক ঘটনাবলি তুলে ধরার নানা উপকরণ নিয়ে জাদুঘরটি সাজানো হয়। তখন এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেছিলেন, ‘গণভবন একটা ক্রাইম জোন। এখান থেকেই হত্যা গুম খুনের পরিকল্পনা করা হয়। ভবনটিকে এমনভাবে জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হবে, যাতে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের বাস্তবচিত্র ফুটে ওঠে।’
জানা যায়, গণভবনে শেখ হাসিনার বসবাসের পর থেকে প্রায় সাড়ে ১৭ একর ভূমি জুড়ে খামারবাড়ি হিসাবে গড়ে ওঠে। দোতলা ভবন, পুকুর, উন্মুক্ত ভূমি, শাক সবজি বাগানসহ নানা প্রজাতির গাছপালায় সজ্জিত ছিল স্থানটি। বঙ্গবন্ধু যখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হিসেবে গণভবন ব্যবহার করতেন, তখন সেটা ছিল অনেকটা সাদামাটা। কারণ তিনি সেখানে কখনো রাত কাটাতেন না। সন্ধ্যাকালীন অফিস ছিল মূলত এটা। বিকেল থেকে রাত দশটা এগারোটা পর্যন্ত অফিস করে তিনি ৩২ নম্বরের নিজস্ব বাড়িতে চলে যেতেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর গণভবনের নামকরণ করা হয় করতোয়া । ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন করতোয়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী রাত্রি যাপন করলেও সেটা ছিল শেখ মুজিবের বানানো গণভবন।
১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে প্রধানমন্ত্রী মিজানুর রহমান চৌধুরী ও কাজী জাফর আহমেদ সেখানে অফিস করতেন। প্রেসিডেন্ট এরশাদ দুই ঈদে হাজির হয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতেন। তবে ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গণভবনে উঠে শেখ হাসিনা এর খোলনলচে পাল্টে দেন। ভবনে প্রধানমন্ত্রীর সব কর্মকর্তা, এসএসএফ, পিজিআর, আর্মড পুলিশ ও সেনাবাহিনী সদস্যের জন্য স্বতন্ত্র কক্ষের ব্যবস্থা করা হয়। নির্মাণ করা হয় প্রেস সেল। যার অবস্থান মূল ফটকের পাশে আলাদা একটা ভবনে। প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিবের জন্য আলাদা অফিসের ব্যবস্থা করা হয়। আগের স্থাপনায় নতুন করে নির্মাণ করা হয় ১৩০ আসনের একটি কনফারেন্স কক্ষ।
গণভবনের মূল স্থাপনাটি ব্যাপক সংস্কার করলে নিচতলা ও দোতলায় মিলে দাঁড়ায় ৩৭ হাজার বর্গফুট। কনফারেন্স কক্ষ নির্মাণের পর মোট আয়তন হয় ৫৭ হাজার ফুট। গণভবনের নিচ তলায় রয়েছে বৃহৎ ৬টি কক্ষ। উপরতলায় আছে পাঁচটি স্যুট। উপর তলায় একটি কনফারেন্স লাউন্স নিচতলা করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী অফিস। ভবনের মধ্যে শরীরচর্চার জন্য একটি ব্যায়ামাগার রয়েছে। গণভবন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ছিল একদল কর্মচারী। তাদের জন্য ৩ একর জমির উপর ভবন নির্মাণ করা হয়। আর কর্মকর্তাদের বাসভবন নির্মাণ করা হয় ৪ একর জমির উপর। গণভবনের ভিতরে একটি হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হয়েছে। যেখান থেকে সহজে হেলিকপ্টার উঠানামা করতে পারে। জুলাই বিপ্লবের জনরোষে পড়ে জমি ছাড়া গণভবন অনেকখানি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু অন্তবর্তীকালীন সরকার নামে মাত্র জাদুঘরটি উদ্বোধন করে। এখনো পর্যন্ত কাঠামো নির্মাণ, জনবল নিয়োগ সম্পন্ন করতে পারেনি। জনবল নিয়োগের অস্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেছিলেন জাতীয় নির্বাচনের আগেই জাদুঘরটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিবেন। কিন্তু তিনি কথা রাখেননি। জাদুঘরটি অসম্পূর্ণ রেখেই তিনি বিদায় নিয়েছেন। এখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। সর্বশেষ গত ১২ মে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জাদুঘরটি পরিদর্শন করে ঘোষণা দিয়েছেন জুলাই মাসের শেষ কিংবা পহেলা আগস্ট তা জনগণের জন্য খুলে দেওয়া হবে। সেটা কতটা কার্যকর হয় তা জানতে হলে অপেক্ষায় থাকতে হবে।
No comments