মোদি থেকে মমতা, ভোটে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর যারা
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে এবার এক জটিল ও বহুমাত্রিক রাজনৈতিক লড়াই চলছে। এ নির্বাচনে শুধু দল নয়, কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও বড় ‘ফ্যাক্টর’ হিসেবে উঠে এসেছেন। তাদের ভূমিকা, জনপ্রিয়তা, বিতর্ক এবং কৌশল—সব মিলিয়ে ভোটের ফল নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাম রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন। ২০১১ সালে বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসার পর থেকে টানা শাসন করছেন। নিজেকে ‘দিদি’ হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরা, বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প যেমন লক্ষ্মীর ভান্ডার, কন্যাশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী—এসব তার বড় শক্তি। বিশেষ করে নারী ও সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যে তার প্রভাব উল্লেখযোগ্য। তবে দুর্নীতি, চাকরি কেলেঙ্কারি, নারী নিরাপত্তা ইস্যু—এসব তার সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরি করেছে, যা ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে বিজেপির মুখ হিসেবে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তারা পশ্চিমবঙ্গকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে বারবার প্রচারে এসেছেন। মোদির জনপ্রিয়তা এবং শাহের সংগঠনিক দক্ষতা বিজেপির বড় শক্তি। তারা দুর্নীতি, অনুপ্রবেশ ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে তৃণমূলকে আক্রমণ করেছেন। তবে বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে দূরত্ব এবং ধর্মীয় মেরুকরণের অভিযোগ বিজেপির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও তিনি প্রার্থী নন, তবুও দলের কৌশল, সংগঠন ও প্রচারে তার ভূমিকা বড়। তরুণ নেতা হিসেবে তার ‘স্মার্ট’ ইমেজ ও মাঠপর্যায়ের কাজ দলকে শক্তিশালী করেছে। তবে তার বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
বিজেপির পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ মুখ শুভেন্দু অধিকারী। একসময় তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ থাকলেও এখন তিনি বিরোধী দলনেতা। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন। পূর্ব মেদিনীপুরে তার শক্ত অবস্থান রয়েছে। এবার তিনি নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুরেও প্রার্থী হয়ে সরাসরি মমতাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন। তবে তার বিরুদ্ধে ধর্মীয় মেরুকরণের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া আলোচনায় আছেন হুমায়ুন কবীর। তিনি একাধিক দল পরিবর্তন করে এখন নিজের দল গঠন করেছেন। মুর্শিদাবাদ অঞ্চলে তার কিছু প্রভাব রয়েছে। মুসলিম ভোটব্যাংকে প্রভাব ফেলতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাকে ঘিরে বিতর্কও কম নয়। বিশ্লেষকদের মতে, এ নির্বাচনে শুধু উন্নয়ন বা দুর্নীতি নয়, বরং এসআইআর (ভোটার তালিকা-সংক্রান্ত বিতর্ক) বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের এ নির্বাচন ব্যক্তিত্ব, কৌশল, ইস্যু এবং ভোটব্যাংকের জটিল সমীকরণের ওপর দাঁড়িয়ে। কে জিতবে তা নির্ভর করবে এই ফ্যাক্টরগুলো কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগানো যায় তার ওপর।

No comments