শিরোনাম

বগুড়ায় দিনদুপুরে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ী আলাল শেখ হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিদের গ্রেফতার ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা দাবিতে মানববন্ধন

বগুড়া প্রতিনিধিঃ

বগুড়ার ফতেহ আলী বাজার কাঁচামাল মালিক সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত আলোচিত আলাল শেখ হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার এবং তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার।

জানা গেছে, গত ২৮ মার্চ ২০২৬ ফতেহ আলী বাজার কাঁচামাল মালিক সমিতির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ছিলেন আলাল শেখ। ঘটনার দিন সকাল ৮টার দিকে তিনি বাসা থেকে ভোট দিতে বের হন। ভোট প্রদান শেষে বাজার থেকে বের হওয়ার কিছুক্ষণ পর ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল তাকে প্রকাশ্যে সবার সামনে তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরিবারের দাবি, বগুড়া শহরের সেউজগাড়ী এলাকার ডাবতলা এলাকায় নিয়ে আলাল শেখের ওপর নির্মম হামলা চালানো হয়। সেখানে হাতুড়ি দিয়ে তার হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে পায়ের রগ কেটে ফেলা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩ এপ্রিল ভোররাতে তিনি মারা যান।

নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেন, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে হামলাকারীদের স্পষ্টভাবে দেখা গেলেও এখনো মূল আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন শফিকুল ইসলাম, রবিন শেখ, ফুল্লা আলম, জেল্লাল, নয়ন, রতন ও জনি ওরফে বিল্লা।

প্রধান অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম বর্তমানে বগুড়া জেলা যুবদলের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক। ২০০১ সালে বাদুরতলায় মুন্সি উজ্জল হত্যা, ২০০৩ সালে শহর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু তালহা ঠান্ডু হত্যা, পৌর কাউন্সিলর সামসুদ্দিন শেখ হেলালের উপর ককটেল হামলা, সোহাগকে কুপিয়ে আহতসহ এক ডজন মামলার আসামি এই শফিক এবং এইসব মামলার তার যাবজ্জীবন সাজাও হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “প্রকাশ্যে দিবালোকে একজন মানুষকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। একইসঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

তারা অবিলম্বে আলাল শেখ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকল আসামিকে গ্রেফতার, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তবে নিহতের পরিবার বলছে, দ্রুত বিচার না হলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে।

No comments