শেখ হাসিনা ভারতে আছেন কীভাবে
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে অনুপ্রবেশ ও ‘বাংলাদেশ তত্ত্ব’ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন মাত্রা পেল। বিজেপির তরফে পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ তোলার জবাবে সরাসরি দিল্লিকেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে এত অভিযোগ ও রাজনৈতিক বিতর্ক, তাহলে দেড় বছর ধরে ভারতে অবস্থান করা বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান কীভাবে ব্যাখ্যা করবে কেন্দ্রীয় সরকার। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রশ্ন তুলে বিজেপি নেতৃত্বের অবস্থানকেই কাঠগড়ায় তোলার চেষ্টা করেছেন। তার বক্তব্য, অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়ে বারবার কঠোর অবস্থানের কথা বলা হলেও বাস্তবে কিছু ক্ষেত্রে ভিন্ন ছবি সামনে আসছে।
এই প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, একই বিষয়ে দ্বৈত অবস্থান থাকলে তা জনমানসে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির এই ফারাক নিয়ে তিনি সরাসরি জবাব চান কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্বের কাছে। এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। সাম্প্রতিক নিরাপত্তা ইস্যু নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া হামলার প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক জানতে চান, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোথায় ঘাটতি রয়েছে এবং কেন সেই ঘটনাগুলো প্রতিরোধ করা সম্ভব হলো না। তার এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কারণ, এতদিন অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বিজেপির বক্তব্যই বেশি জোরালোভাবে সামনে আসছিল। এবার সেই একই ইস্যুতে পালটা প্রশ্ন তুলে আক্রমণের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এ ধরনের পালটা বয়ান রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে অনুপ্রবেশ নিয়ে কড়া অবস্থান, অন্যদিকে সুনির্দিষ্ট উদাহরণ টেনে প্রশ্ন-এই দ্বন্দ্বই এখন নির্বাচনি প্রচারের অন্যতম কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
ভোটের আগে তাই এই তর্ক-প্রতিতর্ক আরও তীব্র হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন নজর, অভিষেকের এই প্রশ্নের জবাবে দিল্লির প্রতিক্রিয়া কী হয় এবং তা রাজনৈতিক লড়াইয়ে কতটা প্রভাব ফেলে।

No comments