শিরোনাম

মৌলভীবাজারে বৃষ্টি-পাহাড়ি ঢলে ডুবল পাকা ধান, দিশেহারা কৃষক

চ্যানেল টেন ডেস্কঃ

মৌলভীবাজারে অব্যাহত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ডুবে গেছে পাকা বোরোধানের ফসল। হাওরের পাশাপাশি নন হাওর এলাকা ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়ে জেলার বেশিরভাগ পাকা বোরোধান পানির নিচে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। পাকা ফসল ঘরে তুলতে না পাড়ায় কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। 

কৃষকেরা জানান, দুদিনের অব্যাহত বৃষ্টিপাতে গতকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় পানিতে  নিমজ্জিত। গতকাল রাতে যেসব ধান বন্যায় আক্রান্ত হয়নি তা আজ সকালে ডুবে গেছে। হাওর এলাকার ধান পুরোপুরি ডুবলেও নন হাওর এলাকার ধান আজ ডুবে গেছে। হাওর এলাকার কিছু কৃষক ধান কাটলেও নন হাওর এলাকার কৃষকেরা ধান কাটতে পারেননি। 

পাকা বোরোধান ঘরে তুলতে না পাড়ায় অনেক কৃষক ঋণের বোঝা নিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরোধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ হাজার ৩৫৫ হেক্টর হাওর এলাকায় চাষ করা হয়েছে। হাওরে প্রায় ৮৩ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। নন হাওর এলাকায় ৩৫ হাজার হেক্টর বোরোধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। 

সরেজমিনে জেলার কমলগঞ্জ, রাজনগর, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বেশকিছু এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কৃষকেরা স্বপ্নের ফসল ঘরে তুলতে না পাড়ায় অনেক কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। 

কমলগঞ্জের কৃষক কামাল আহমেদ বলেন, ধান কাটার সময় আমার এক একর জমি ডুবে গেছে। কিভাবে বছরের বাকি সময় ভাত খাব তা বুঝতে পারছি না। শুধু আমি একা নই, আমার মতো অনেক কৃষকের কপাল পুড়েছে। সবাই খালি হাতে ফিরছেন। চোখের সামনে ধান খেত ডুবে গেল কিন্তু কিছুই করতে পারলাম না।

কৃষক সজিব আহমেদ বলেন, অনেক কষ্ট করে ধান চাষ করে ছিলাম। ৮০০ টাকা মণে ধান বিক্রি করে আগাম টাকা এনেছিলাম। এগুলো কিভাবে পরিশোধ করব জানি না। একদিকে ঋণের বোঝা মাথায়, অন্যদিকে খাবার নেই ঘরে। সব মিলিয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে। 

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, হাওর এলাকায় ধান ৮৩ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। নন হাওর এলাকায় ১৭ শতাংশ। নিমজ্জিত এলাকা থেকে পানি দ্রুত নেমে গেলে কিছু ধান হয়তো রক্ষা হবে।

No comments