বিসিবিতে বুলবুলের চেয়ার নড়বড়ে
চ্যানেল টেন ডেস্কঃ
বিসিবির নির্বাচনের সময় কয়েকজন পরিচালকের অবস্থান ধোঁয়াশা ছিল। বিদ্রোহী ক্লাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে সভা-সেমিনারে অংশগ্রহণ করলেও নির্বাচিত হয়েছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুলের আশীর্বাদে। ক্লাব ক্যাটেগরি থেকে নির্বাচিত মঞ্জুরুল আলম ছিলেন সেই দলের। অথচ তিনিও বুলবুলকে ফেলে বিসিবির পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন শনিবার। এভাবে একের পর এক সাতজন পরিচালকের পদত্যাগ বুলবুলের প্রতি অনাস্থা প্রকাশের মতোই।
তবে বিসিবি সভাপতি এসবের তোয়াক্কা করছেন না। শেষ ব্যক্তি হিসেবে হলেও সভাপতির চেয়ার আগলে রাখতে চান তিনি। শনিবার রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে এই ইচ্ছার কথা জানান বিসিবি সভাপতি। যদিও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা হওয়া এবং একের পর এক পরিচালকের পদত্যাগে নড়বড়ে হয়ে গেছে বুলবুলের সভাপতির চেয়ার।
আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, ‘আমি আমার চেয়ারে থেকে যতটুকু পারি, তাই করব। সবার শেষে বের হব।’
তিনি জানান, খুবই নিবেদিত একটি দল নিয়ে কাজ করছেন তিনি। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এই দল নিয়েই সেবা করে যেতে চান বুলবুল। তিনি ছাড়া যে আইসিসিতে কারও কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই, সেটাও উল্লেখ করেছেন। ‘বলছি না আমি অনেক বড় কিছু। তবে আমি এখানে বসে আছি অভিজ্ঞতার কারণে। আমার দেশকে সেবা করার জন্যই সবকিছু ছেড়ে এসেছি। এখানে থাকা না হলে অন্যভাবে হলেও দেশকে সাপোর্ট করে যাব।’
আমিনুল ইসলাম বুলবুল সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ক্ষমতা ব্যবহার করে ঢাকা বিভাগ থেকে পরিচালক নির্বাচিত হন। তিনি সভাপতিও নির্বাচিত হন সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টার নির্দেশনায়। বুলবুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকলেও আসিফ মাহমুদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখেছেন তিনি। এনসিপির মুখপাত্র গতকাল ফেসবুকে নির্বাচনে তদন্তের পেছনে তামিম ইকবাল, বিসিবিতে সরকারি হস্তক্ষেপ, আওয়ামী লীগ ও ভারতের ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। এই স্ট্যাটাসের পরই আসিফ মাহমুদের সঙ্গে বুলবুলের যোগসূত্র খুঁজে পাচ্ছেন ক্রিকেট সংগঠকরা।
বিসিবি সভাপতি বোর্ড পরিচালকদের একাংশের সমর্থন নিয়ে টিকে থাকার চেষ্টা শেষ পর্যন্ত করে যেতে চান। ক্রিকেট বোর্ডের একটি সূত্রে জানা গেছে, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে যোগাযোগ করারও পথ খুঁজছেন তিনি। তবে যাদের ওপর ভর করে এগিয়ে যেতে চাচ্ছিলেন, সেই বিএনপি সমর্থিত পরিচালকরা পদত্যাগ করায় পাশার দান উল্টে গেছে। ক্লাব ক্যাটেগরি থেকে ছয়জন পরিচালক পদত্যাগ করেছেন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেছেন একজন। বুলবুলের কমিটিতে এখনও ১৮ জন পরিচালক রয়েছেন। ন্যূনতম ৯ জন পরিচালক থাকলেও কোরাম পূর্ণ করে ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান কমিটি বহাল থাকবে।
ফারুক আহমেদ, খালেদ মাসুদ পাইলট, আব্দুর রাজ্জাক, এম নাজমুল ইসলাম, নাজমুল আবেদীন ফাহিম, শাখাওয়াত হোসেন, আসিফ আকবর, মোকছেদুল কামাল বাবু, ইফতেখার রহমান মিঠু, রুবাবা দৌলাদের নিয়ে পরিচালনা পর্ষদে বিসিবি সভাপতির শক্ত অবস্থান।
যদিও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের একজন কর্মকর্তা ভিন্ন বার্তা দিয়েছেন, ‘আইসিসি থেকে সবুজ সংকেত নিয়ে বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হবে।’ তিন মাসের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হবে অ্যাডহক কমিটিকে। তিন মাস সময় নিয়ে কাউন্সিলর হালনাগাদ করা হবে। জেলা-বিভাগের অ্যাডহক কমিটির নির্বাচনও সম্পন্ন হবে তত দিনে। ফলে নতুন করে হস্তক্ষেপমুক্ত একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চার বছরের জন্য বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হবে বলে আশা ক্রিকেটসংশ্লিষ্টদের।
বিসিবির বর্তমান কমিটি থেকে পরিচালকদের পদত্যাগের কারণ হিসেবে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সরকারের প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখছেন। এ ব্যাপারে পদত্যাগ করা তিনজন পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বুলবুলের বোর্ডে উপেক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়টিকে সামনে এনেছেন তারা। এনএসসির তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হয়ে রাজসাক্ষীও হয়েছেন কেউ কেউ। আমিনুল ইসলাম বুলবুল বিষয়টি বুঝলেও কিছু করার নেই। বিসিবি থেকে বিদায় নিশ্চিত ধরে নিয়েই ক্রিকেটীয় কার্যক্রম চালিয়ে নিচ্ছেন তিনি।
গতকাল টেস্ট ক্রিকেটারদের সঙ্গে সভা করেছেন ড্রেসিংরুমে। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থার কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন। বিদায়ের আগে উচ্চ বেতনে একগাদা নিয়োগ দিয়ে দিচ্ছেন বুলবুল। এ নিয়ে শনিবারের সভায় ব্যাপক প্রতিবাদী ছিলেন ফাইয়াজুর রহমান মিতু।
No comments