নকল দুধ তৈরির অভিযোগে ব্যবসায়ীকে ৬ মাসের কারাদণ্ড
চ্যানেল টেন ডেস্কঃ
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় নকল দুধ তৈরির অভিযোগে খাইরুল ইসলাম (২০) নামে এক ব্যবসায়ীকে ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান এ আদেশ দেন।
এদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে খাইরুল ইসলামের বাড়িতে এ অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় তার বাড়ি থেকে ২৪ লিটার সয়াবিন তেল ও দুটি ব্লেন্ডার মেশিনসহ নকল দুধ জব্দ করা হয়।
এর আগে, গত ১৭ এপ্রিল মধ্যরাতে ফারুক হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে নকল দুধ তৈরির অভিযোগে কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গুড়া পৌর শহরের হারোপাড়া মহল্লার মো. আছাব আলীর ছেলে খাইরুল এক বছর ধরে নকল দুধ তৈরি করে বিক্রি করছেন। নিষিদ্ধ জেলি, সয়াবিন তেল ও কস্টিক সোডাসহ বিভিন্ন রাসায়নিক উপকরণ ব্লেন্ডার করে মিশিয়ে এই নকল দুধের মূল উপকরণ তৈরি করতেন। এই উপকরণের সঙ্গে পানি ও ননি উঠিয়ে নেওয়া দুধ মিশিয়ে পরিমাণ বৃদ্ধি করতেন।
এভাবে প্রতিদিন শত শত লিটার দুধ তৈরি করে চিলিং সেন্টারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করত।
এদিকে নকল দুধ তৈরির ঘটনায় গণমাধ্যমে নিয়মিত সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসন নকল দুধ তৈরির সঙ্গে জড়িতদের ধরতে অভিযান পরিচালনা করে। তবে দুগ্ধ ও খামার সংশ্লিষ্ট দপ্তর, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের অসহযোগিতার কারণে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উপজেলা প্রশাসন কর্মকর্তাদের।
সর্বশেষ গত শুক্রবার রাতে নকল দুধ তৈরির ঘটনায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করা হলেও এই অভিযানে তাদের কোনো কর্মকর্তা অংশ নেয়নি।
পরে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালায়। ইতোপূর্বে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হলেও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন না অভিযোগ রয়েছে। এসব কারবারিদের পর্যাপ্ত তথ্য প্রাণিসম্পদ অফিসের কাছে নেই বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ অফিস।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুমানা আক্তার বলেন, 'আমি ঢাকায় আছি। ভেটেরিনারি সার্জন সাপ্তাহিক ছুটির কারণে পাবনায় আছেন।
তাই অভিযানে থাকা সম্ভব নয়। আমাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন আছে, তাই সাপ্তাহিক ছুটির দিন পরিবারকে দিতে হয়।'
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান বলেন, 'নকল দুধ বন্ধে এখন নিয়মিত অভিযান চলবে। তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসকে এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে উপজেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে। কিন্তু প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। অথচ সংশ্লিষ্ট দপ্তর হিসেবে প্রাণিসম্পদ অফিসের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য থাকার কথা।'
পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘ভাঙ্গুড়ায় নকল দুধ তৈরির বিষয়টি এখন আলোচিত। তাই উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাদের আরো দায়িত্বশীল হতে হবে এবং এই নকল দুধ কারবারিদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগে ভূমিকা পালন করতে হবে। এ বিষয়ে জেলা অফিস থেকে নির্দেশনা দেওয়া আছে। এক্ষেত্রে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মকর্তাদের অবশ্যই উপজেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে।’
No comments