খরায় ঝরে পড়ছে আমের গুটি, উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা
চ্যানেল টেন ডেস্কঃ
চলতি মৌসুমে দীর্ঘদিন খরা ও বৃষ্টিহীনতার প্রভাবে গাছেই শুকিয়ে ঝরে পড়ছে আমের গুটি। ফলে আমের উৎপাদন নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন রাজশাহীর আমচাষিরা।
সরেজমিনে নগরীর বুধপাড়া এলাকার কয়েকটি আমের বাগান ঘুরে দেখা গেছে, অনেক বাগানে গুটি শুকিয়ে কালচে হয়ে ঝরে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও গুটিতে দাগ পড়ে পচন ধরছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়া, অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও বাতাসের আর্দ্রতা কমে যাওয়ায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের। গেল বছর ছিল ১৯ হাজার ৬০৩ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৬০ হাজার টন। এক বছরে কমেছে ৫৪১ হেক্টর আম বাগান।
অপরদিকে গত বছর ৫২৮ হেক্টর বাগানে লিচু চাষ হয়েছিল। এর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৭৬৮ টন। এক বছরের ব্যবধানে দুই হেক্টর কমেছে লিচু চাষ। তবে লিচু চাষের জমি কমলেও উৎপাদন বাড়ার আভাস দিয়ে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৭৭৫ টন।
বুধপাড়া এলাকার চাষি আবু হেনা জানান, গাছে ভালো মুকুল এসেছিল। গুটিও ধরেছিল, কিন্তু বৃষ্টি না থাকায় গুটি টিকছে না। প্রতিদিনই ঝরে পড়ছে। এতে সম্ভাব্য ফলন অনেকটাই কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অপর চাষি শামিম বলেন, বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকতে থাকতে আমের গুটি ঝরে যাচ্ছে। গাছের গোড়ার মাটি খুরে পানি দিয়ে ছিলাম। আম ঝরে পড়া কমেছে। তবে পুরো বাগানে সেচ দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন কৃষি অফিস। সেচ দিতে পারা যাচ্ছে না ডিজেলের (জ্বালানি) অভাবে। দেখা যাক করে আল্লাহ বৃষ্টি দেয়।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গেল ২০ মার্চ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত চারদিন বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ সময় প্রায় ১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এরমধ্যে সর্বশেষ গেল ৭ এপ্রিল ১ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। এর আগে ২৮ মার্চ ৯ দশমিক ২ মিলিমিটার, ২২ মার্চ ২ দশমিক ৬ মিলিমিটার এবং ২০ মার্চ শূন্য দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গুটি অবস্থায় আমগাছের জন্য মাটি আর্দ্র থাকা জরুরি। কিন্তু দীর্ঘ খরায় মাটির আর্দ্রতা কমে গেলে গুটি ঝরে পড়ে। পাশাপাশি পোকামাকড় ও রোগের আক্রমণও বাড়ছে। চাষিদের নিয়মিত সেচ দেওয়া, প্রয়োজন অনুযায়ী ছত্রাকনাশক ব্যবহার এবং গাছের পরিচর্যা বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, এখনো সেভাবে খরা পড়েনি। টুকটাক বৃষ্টি হচ্ছে, যদিও সামান্য। যে সকল গাছে গুটি ঝরা দেখা দিয়েছে বা শুকিয়ে যাচ্ছে, তাদের আমরা গাছের গোড়ায় সেচ দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। তাহলে গুটি ঝরা রোধ হবে।
No comments