শিরোনাম

৭ জেলায় ১২ প্রাণহানি, বজ্রপাতে থামছেই না মৃত্যুর মিছিল

চ্যানেল টেন ডেস্কঃ

দেশজুড়ে কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডব যেন কেড়ে নিল একের পর এক জীবন। মাত্র একদিনে ৭ জেলায় বজ্রপাতে অন্তত ১২ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। কেউ মাঠে কাজ করতে গিয়ে, কেউ মাছ ধরতে গিয়ে, আবার কেউ নিত্যদিনের কাজে বের হয়ে আর ঘরে ফিরতে পারেননি। একই সঙ্গে প্রাণ গেছে অর্ধশতাধিক গবাদিপশুরও। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। গতকাল বুধবার (২৯ এপ্রিল) দিনের বিভিন্ন সময়ে এসব হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

পটুয়াখালী

কালবৈশাখীর ঝড়ে পটুয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

সকাল ৯টার দিকে রাঙ্গাবালী উপজেলার চরগঙ্গা গ্রামে গরু বাঁধতে গিয়ে মারা যান সৌরভ মজুমদার (২২)।

দুপুর ১টার দিকে কলাপাড়া উপজেলার তারিকাটা গ্রামে ভুট্টা ক্ষেতে কাজ করার সময় প্রাণ হারান জহির উদ্দিন (২৮)।

দুপুর ২টার দিকে পূর্ব চাকামাইয়া গ্রামে গরুকে ঘাস খাওয়াতে গিয়ে সেতারা বেগম (৫৫) এবং একই সময়ে শান্তিপুর গ্রামে গরু আনতে গিয়ে খালেক হাওলাদার (৫৫) নিহত হন।

এছাড়া গত দুই দিনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতে অন্তত ৫০টি গরুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

জামালপুর

ইসলামপুরে পৃথক বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে শামীম মিয়া (৩৫) এবং রাস্তার কাজে নিয়োজিত অবস্থায় সাগর ইসলাম (১৮) মারা যান। ঘটনাগুলো ঘটে সকালে মরাকান্দি ও ইন্দুল্লামারী গ্রামে।

বরগুনা

পৃথক ঘটনায় পাথরঘাটা ও আমতলীতে বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন দুইজন।

জেলে আল-আমীন এবং কৃষক নূরজামালের মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

নূরজামালের পরিবারকে ইতোমধ্যে ২৫ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

ময়মনসিংহ

তারাকান্দায় মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন সাদ্দাম হোসেন (৩২)।

সকাল ৭টার দিকে রাংসা নদীতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

বাগেরহাট

সদর উপজেলার সরকারডাঙ্গা গ্রামে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা যান দিনমজুর রবিন হাওলাদার (৫৩)।

রংপুর

তারাগঞ্জ উপজেলার কাজীপাড়া গ্রামে খড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে বজ্রপাতে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

রাজবাড়ী

সকাল পৌনে ৭টার দিকে মিজানপুর ইউনিয়নের মজ্জৎকোল গ্রামে বজ্রপাতে নিহত হন সুমন মন্ডল (৩৫)।

ঘটনার সময় কোলে থাকা তার সাড়ে তিন বছরের মেয়ে সাফিয়া ছিটকে পড়ে আহত হলেও বর্তমানে সে সুস্থ রয়েছে।

হঠাৎ নেমে আসা বজ্রপাত যেন মুহূর্তেই ভেঙে দিচ্ছে অসংখ্য পরিবারের স্বপ্ন। একদিনের এই মৃত্যুমিছিল আবারও মনে করিয়ে দিল—প্রাকৃতিক দুর্যোগের কাছে মানুষ কতটা অসহায়।

No comments