শিরোনাম

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আমেরিকার ১৪টি ঘাঁটি ধ্বংস করেছে ইরান

চ্যানেল টেন ডেস্কঃ

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৪টি ঘাঁটিকে ইরান ধ্বংস করে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত জলিল রহীমি জাহানাবাদী।

বুধবার (১ এপ্রিল) মধ্যপ্রাচ্যের সাস্প্রতিক ঘটনা নিয়ে ঢাকায় ইরানের দূতাবাসে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আমেরিকার ১৪টি ঘাঁটি ধ্বংস করে দিয়েছি। প্রতিবেশি আরব দেশগুলোর ঘাঁটি থেকে বিমানে করে ইরানে বোমা বর্ষণ করা হচ্ছে, নারী শিশু মারা যাচ্ছে। আমরা কোনো প্রতিবেশি দেশে আক্রমণ করছি না, আমরা মার্কিন ঘাঁটিতে আক্রমণ করছি। দোষ ওইসব দেশের, যারা মার্কিন ঘাঁটি করার অনুমতি দিয়েছে।

যুদ্ধেরও একটা নীতি থাকে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, যুদ্ধের নামে স্কুল-কলেজে শিশুদের ওপর আক্রমণ করবে, এটা হতে পারে না। তারা যুদ্ধের নামে কীভাবে সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণের ওপর হামলা করেছে। এখানে কি ইরান অস্ত্র তৈরি করেছিল? এটা কি সামরিক ঘাঁটি ছিল? শিশুরা কি আমেরিকা-ইসরাইলের জন্য হুমকি ছিল? আমেরিকা-ইসরাইল যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা বলে, তার মধ্যে কি এটা পড়ে না? মুসলমান হওয়া কি অপরাধ?

তারা মুসলিম বিশ্বকে ধ্বংস করে দিতে চায় মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমাদের মসজিদগুলোকে তারা মনে করে উগ্রবাদের আখড়া। এই যুদ্ধ ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয়, এটি মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে, ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ।

যুদ্ধের শুরুর দিকের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত বলেন, আমেরিকার আগ্রাসনের একমাসের বেশি সময় অতিবাহিত করছি। যুদ্ধটা তখনই তারা শুরু করে, যখন ওমানের মধ্যস্থতায় ভালোভাবে আলোচনা চলছিল। ইসরাইলের উসকানিতে এ যুদ্ধ আমেরিকা শুরু করেছে। পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে যুদ্ধে নিয়ে এসেছে। ট্রাম্প ইসরাইলের প্ররোচনায় যুদ্ধে পা দিয়েছে এবং এখন পালানোর পথ খুঁজছে।

তিনি আরও বলেন, ইরানের প্রযুক্তি ধ্বংস করা এবং ইউরেনিয়াম উদ্ধারের নামে আমেরিকা যা শুরু করেছিল, তাতে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। আমেরিকা পারস্য উপসাগর ছেড়ে পালিয়েছে। এখন ট্রাম্প সুযোগ খুঁজছে যে তারা বিজয়ী হয়েছে। বলতে চাইলে বলুক, আসলে কি আমাদের শাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে পেরেছেন? আমেরিকা-ইসরাইল বুঝবে না, তারপরও বলি, বিশ্ব এখন আর আমেরিকার কথায় চলবে না। এখন ইরানকে হুমকি দেয়া হচ্ছে, পারমাণবিক বোমা বর্ষণের। কিন্তু ইরান এতে ভিত নয়।

জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো শক্তিশালী দেশগুলোর হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ইসরাইলের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত তারা কি কোনো প্রস্তাব পাস করতে পেরেছে?

যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, পাকিস্তান উদ্যোগ গ্রহণ করলে আমরা স্বাগত জানাবো। যুদ্ধের মাধ্যমে তারা যা অর্জন করতে পারি নাই, তা এখন আলোচনা মাধ্যমে করার চেষ্টা করছে। বিপদে পড়েই আমেরিকা এখন যুদ্ধ বন্ধ করতে চাচ্ছে। আমেরিকার ১৫ দফা প্রস্তাবের কোনো উত্তর দেয়নি ইরান। আমেরিকার সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।

আমরা তুরস্ক, পাকিস্তানের মধ্যস্ততাকে স্বাগত জানাই। তবে, যুদ্ধকে আমরা এমন অবস্থায় নিয়ে যেতে চাই যাতে, আমেরিকা আর ইসরাইল যাতে আর কোনো দেশের উপর এমন আগ্রাসন চালাতে না পারে।

তিনি বলেন, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ১শ’ বারের বেশি নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করেছে। দুঃখের বিষয় হলো, আমেরিকায় এমন প্রেসিডেন্ট এখন যে নিজেকেও বোঝে না, মধ্যপ্রাচ্যকেও বোঝে না। অথচ, সে সবার জন্য চরম বিপদ ডেকে এনেছে।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ইরান কখনোই চায় না, যুদ্ধ প্রলম্বিত হোক। আমাদের উপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে, ইরান প্রতিরক্ষামূলক যুদ্ধে নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে। একটি দেশ যখন অবৈধভাবে জাতিসংঘ সনদকে উপেক্ষা করে আরেকটি দেশের ওপর হামলা চালিয়েছে, আমরা চাই এর নিন্দা জানানো হোক। যদি তা না করা হয়, তবে সেই দেশও কোনো না কোনো সময়, এই আগ্রাসী শক্তির আগ্রাসনের শিকার হতে পারে।

জাতিসংঘের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোকে আমরা সঠিক মনে করি না। অনেক দেশই তা মনে করে না। অভিজ্ঞতা থেকে আমরা শিখেছি, বিপদে জাতিসংঘের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। নিজেদের সাহায্য নিজেরা করতে হবে।

No comments