ইরান যুদ্ধে জড়িত মার্কিন সামরিক বিমানকে ঢুকতে দিলো না অস্ট্রিয়া
চ্যানেল টেন ডেস্কঃ
অস্ট্রিয়ার এই পদক্ষেপ সেটিই সামনে এনেছে।অস্ট্রিয়া ন্যাটোর সদস্য না হলেও ইউরোপের প্রাণকেন্দ্রে দেশটির অবস্থানের কারণে অস্ট্রীয় আকাশসীমা পশ্চিম ইউরোপ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে স্পেন ও ইতালিও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমান বা ঘাঁটি ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
এসব সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউস থেকে সমালোচনা করা হয়েছে এবং জোটের ঐক্য নিয়েও প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশেষ করে ন্যাটোর সদস্য স্পেন তাদের আকাশসীমা ব্যবহারে বাধা দেয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হয়েছে। এছাড়া অস্ট্রিয়ার এই সিদ্ধান্ত ইউরোপের দেশগুলোর মনোভাবও তুলে ধরছে যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ইরান যুদ্ধে জড়াতে অনীহা দেখাচ্ছে। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ফ্রান্সের সমালোচনা করেন, কারণ তারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জামবাহী বিমানকে ইসরায়েলে যাওয়ার পথে নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেয়নি।
ট্রাম্প বলেন, ফ্রান্স ‘সহযোগিতা করছে না’ এবং যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্ত ‘মনে রাখবে’। তবে ফরাসি কর্মকর্তারা জানান, তারা সব ধরনের ফ্লাইট নিষিদ্ধ করেনি; বরং আন্তর্জাতিক আইন ও তাদের নীতির ভিত্তিতে প্রতিটি অনুরোধ আলাদাভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, অস্ট্রিয়া ন্যাটোর সদস্য নয়। ১৯৫৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী মিত্রশক্তির দখলদারিত্ব শেষ হওয়ার পর দেশটি সংবিধানে নিরপেক্ষতার নীতি গ্রহণ করে। যদিও অস্ট্রিয়া সীমিত পরিসরে ন্যাটোর সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা করে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কিছু প্রতিরক্ষা উদ্যোগে অংশ নেয়, তবে আইন অনুযায়ী তারা কোনও সামরিক জোটে যোগ দিতে পারে না বা চলমান সংঘাতে সরাসরি সামরিক সহায়তা দিতে পারে না।
আর এই নিরপেক্ষতার নীতিই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুরোধ প্রত্যাখ্যানের মূল ভিত্তি। তবে অস্ট্রিয়ার কর্মকর্তারা স্পষ্ট করেছেন, এটি সব ধরনের মার্কিন সামরিক বিমানের ওপর নিষেধাজ্ঞা নয়; বরং শুধু সেই বিমানগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেগুলো সরাসরি চলমান সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত।
No comments