গাবতলীতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিবন্ধন নিয়ে বিভ্রান্তি, ভিড় কম্পিউটার দোকানে, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা
আহসান হাবিব শিবলু, গাবতলী, বগুড়াঃ
গাবতলী সদর ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সন্ধ্যাবাড়ি, চকবোসাই ও পদ্মপাড়া এলাকায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিবন্ধনকে ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, চকবোসাই স্ট্যান্ডের একটি কম্পিউটার দোকানে এ সংক্রান্ত আবেদন ও প্রিন্ট কার্যক্রম চলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ বাড়তে থাকে। সূত্রগুলো জানায়, ইতোমধ্যে তিনটি গ্রামের প্রায় ১৫০-২০০ জন ব্যক্তি একটি অজ্ঞাত ওয়েবসাইটে তথাকথিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এর জন্য আবেদন করেছেন।
তবে বিষয়টি যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, এ ধরনের কোনো কার্যক্রমের বিষয়ে এখনো পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। উপজেলা সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার সাথেও কথা বলে একই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এদিকে, এই তথাকথিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর, ছবি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য জমা দেওয়া হচ্ছে—যা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এভাবে সংবেদনশীল তথ্য অন্যের হাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে এবং ভবিষ্যতে এসব তথ্য অপব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এ বিষয়েসরেজমিনে জানতে চাইলে চকবোসাই স্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, একটি কম্পিউটার দোকানে লোকজন ভিড় করে আবেদনপত্র প্রিন্ট নিচ্ছেন। এ বিষয়ে আরমান কম্পিউটার দোকানের স্বত্বাধিকারী আরমান হোসেন জানান, তিনি নিজেও এ ধরনের কোনো সরকারি ঘোষণা পাননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কেউ একজন বা কিছু ব্যক্তি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে একটি পোর্টালে আইডি কার্ড ও ছবি দিয়ে আবেদন শুরু করে দেয়। পরে মানুষজন আমার দোকানে এসে সেগুলো প্রিন্ট করতে চায়।
আমি তাদের বুঝানোর চেষ্টা করেছি, কিন্তু তারা প্রিন্ট নেওয়ার জন্য জোরাজুরি করে। তিনি আরও বলেন, আমি শুধু প্রিন্টের জন্য ১০ টাকা নিয়েছি। আর ১০-২০ জনকে আবেদন করতে সহায়তা করেছি, যার জন্য ৫০ টাকা করে নিয়েছি। তবে সবাই থেকে ১০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সচেতন মহল বলছে, অপ্রমাণিত ওয়েবসাইটে ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান থেকে বিরত থাকা জরুরি এবং সরকারি ঘোষণা ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রমে অংশ না নেওয়াই নিরাপদ। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত স্পষ্ট নির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
No comments