শিরোনাম

কুড়িগ্রামে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তরুণীকে ডেকে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

চ্যানেল টেন ডেস্কঃ

কুড়িগ্রামের কচাকাটায় বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক তরুণীকে (১৮) ডেকে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার প্রেমিক ও দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত প্রেমিক জাহিদ হাসানকে (২২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে নাগেশ্বরী থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, নাগেশ্বরী উপজেলার কেদার ইউনিয়নের টেপারকুটি গ্রামের ওই তরুণীর সঙ্গে পাশের বল্লভেরখাষ ইউনিয়নের ধারিয়ার পাড় গ্রামের আহম্মদ আলীর ছেলে জাহিদের গত সাত মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সোমবার সন্ধ্যায় জাহিদ ওই তরুণীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে আনে। 

পরিকল্পনা অনুযায়ী, তরুণীটি প্রথমে জাহিদের বন্ধু বাবু ওরফে আকাশের বাড়িতে যান। পরে জাহিদ ও তার আরেক বন্ধু লালন সেখানে উপস্থিত হন। রাত ১১টার দিকে তারা তরুণীকে নিয়ে দুধকুমার নদীর আয়নালের ঘাট এলাকার দিকে রওনা দেন। পথিমধ্যে চর লুছনি এলাকায় নদীর তীরের একটি ভুট্টাখেতে নিয়ে জাহিদ ও তার দুই বন্ধু বাবু ও লালন ওই তরুণীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। 

ধর্ষণের শিকার তরুণী জানান, প্রথমে জাহিদ তাকে ধর্ষণ করে। পরে অন্য দুই বন্ধু ঘটনাটি জানাজানি করার ও লোক ডাকার হুমকি দিয়ে জাহিদের সহযোগিতায় তাকে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে তরুণীটি অসুস্থ হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা তাকে সেখানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

ঘটনার রাতে ওই তরুণী অসুস্থ অবস্থায় পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরদিন মঙ্গলবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। মঙ্গলবার রাতেই তরুণীর বাবা বাদী হয়ে কচাকাটা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভূরুঙ্গামারী সার্কেল) মুনতাসির মামুন মুন বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে এক নারীর দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে এমন খবর পেয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। রাতেই মামলা দায়ের করে প্রধান আসামি জাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য দুজনকে গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা চলছে। বিষয়টি জেলা পুলিশ গুরুত্ব সহকারে দেখছে। বুধবার সকালে ধর্ষণের শিকার নারীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ও গ্রেপ্তার জাহিদকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

No comments